বিশ্বজুড়ে তরুণরা এখন সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করছে। এই তরুণরা মূলত ‘জেনারেশন-জেড’ বা সংক্ষেপে জেন-জি নামে পরিচিত। চলতি বছরগুলিতে তারা বিভিন্ন দেশে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের উপর সরাসরি চাপ সৃষ্টি করেছে। তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সীমিত, এবং অনেক ক্ষেত্রে জেন-জি আন্দোলন আরব বসন্তের মতোই “শক্তিশালী শুরু কিন্তু টেকসই পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ” প্রমাণিত হচ্ছে। আত্মবিশ্বাসী প্রাথমিক মুহূর্তের পর, অনেক দেশের তরুণরা দেখেছে যে তাদের আন্দোলন রাজনৈতিক ব্যবস্থার মূল কাঠামোতে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে সক্ষম হচ্ছে না। যেমন আরব বসন্তের ক্ষেত্রে তিউনিসিয়া একমাত্র ‘সফল’ দেশ হিসেবে ধরা হলেও সেখানে পরে নতুনভাবে কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থার উদ্ভব হয়। এই ইতিহাস আজকের জেন-জি আন্দোলনের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জেন-জি আন্দোলনের উত্থান এবং আন্তর্জাতিক প্রভাব সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জেন-জি আন্দোলন দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকায় বিভিন্ন আকারে দেখা গেছে। এ আন্দোলন মূলত দুর্নীতি, অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক বৈষম্য এবং রাষ্ট্রক্ষমতার প্রতি অসন্তোষ থেকে উদ্ভূত। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জেন-জি আন্দোলনের মূল বৈশিষ্ট্য হলো দ্রুত বিস্তার, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার, তরুণদের নেতৃত্ব এবং গণমাধ্যমের সরাসরি অংশগ্রহণ। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদি দমনমূলক শাসন উল্টে দেয়। আন্দোলনের পর একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। তবে কাঠামোগত সংস্কার সীমিত, অর্থাৎ বিদ্যমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শক্তি এখনও পুরনো রাজনৈতিক শ্রেণির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ২০২২ সালে শ্রীলংকায় তরুণদের নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থান রাজাপাকসে পরিবারের দুই দশক ধরে প্রভাবশালী ‘একচেটিয়া’ রাজনীতির অবসান ঘটায়। প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে এবং তার অর্থমন্ত্রী ভাই দেশত্যাগে বাধ্য হন। পরবর্তী ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ক্ষমতায় আসে ন্যাশনাল পিপলস পাওয়ার পার্টির নেতা অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে। এখানে নির্বাচনের ফলাফল, সংবিধান পরিবর্তন এবং প্রেসিডেন্সির ক্ষমতা হ্রাস করার মতো পদক্ষেপ দেখাচ্ছে যে, কিছু দেশ জেন-জি আন্দোলন থেকে দৃশ্যমান কাঠামোগত পরিবর্তন গ্রহণ করতে সক্ষম। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে নেপালে দুর্নীতি ও প্রশাসনিক অকার্যকরতার প্রতিবাদে তরুণরা সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করে। তবে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্র এখনও পুরনো রাজনৈতিক দলের হাতে রয়েছে। অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব এবং নিত্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি তীব্র, ফলে তরুণদের আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্যগুলোর বাস্তবায়ন সীমিত। মাদাগাস্কার, মরক্কো, ফিলিপাইন, কেনিয়া, তিমুর-লেস্তে, ইন্দোনেশিয়া, পেরু, বুলগেরিয়া, সার্বিয়া প্রভৃতি দেশে জেন-জি আন্দোলন বিভিন্ন আকারে দেখা গেছে। এই আন্দোলনের লক্ষ্যগুলো মূলত: দুর্নীতি দমন ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি সামাজিক ও শিক্ষাক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ পুনর্বিবেচনা রাজনৈতিক অংশগ্রহণে তরুণদের ক্ষমতা বৃদ্ধি জীবনযাত্রার ব্যয় ও কর্মসংস্থানের সমস্যার সমাধান তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, অনলাইন-নির্ভর আন্দোলনগুলো দ্রুত ছড়িয়ে গেলেও টেকসই পরিবর্তন আনতে পারছে না। জেন-জি আন্দোলনের আন্তর্জাতিক চিত্র নিম্নের টেবিলে জেন-জি আন্দোলনের দেশভিত্তিক প্রভাব সংক্ষেপে দেওয়া হলো: দেশ আন্দোলনের মূল কারণ ফলাফল কাঠামোগত সংস্কার বাংলাদেশ (২০২৪) দীর্ঘমেয়াদি দমনমূলক শাসন শাসক পতন, অন্তর্বর্তী সরকার সীমিত শ্রীলংকা (২০২২) দুর্নীতি, অর্থনৈতিক ধস রাজাপাকসে পরিবারতন্ত্রের অবসান প্রেসিডেন্সি ক্ষমতা কমানো, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি নেপাল (২০২৫) দুর্নীতি, প্রশাসনিক অকার্যকরতা প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ আংশিক সংস্কার ইন্দোনেশিয়া (২০২৫) দুর্নীতি, কর ও সামাজিক ব্যয় সীমিত প্রভাব মূল কাঠামো অপরিবর্তিত মরক্কো (২০২৫) বাজেট সংকোচন, মূল্যস্ফীতি ভর্তুকি পুনর্বিবেচনা আংশিক সংস্কার ফিলিপাইন (২০২৫) শিক্ষা ব্যয়, ছাত্র ঋণ, স্বজনপ্রীতি কিছু সামাজিক প্রকল্প পুনর্বিবেচনা দুর্নীতি দমন ও কর্মসংস্থান সীমিত কেনিয়া (২০২৫) […]
Read more