খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 28শে পৌষ ১৪৩২ | ১১ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিযোগিতায় চীনের সাম্প্রতিক অগ্রগতি প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। সাধারণত এই দৌড়ে মার্কিন কোম্পানি এনভিডিয়া, তাইওয়ানের টিএসএমসি ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং, মাইক্রন, এসকে হাইনিক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম প্রথমেই আসে। তারা মূলত ডেটা সেন্টারের জিপিইউ ও মেমোরি চিপ সরবরাহ করে। সম্প্রতি গুগলও নিজস্ব টিপিইউ চিপের কারণে এই দৌড়ে শক্তিশালী খেলোয়াড় হিসেবে উঠে এসেছে।
তবে অনেকের অজানা বিষয় হলো নেদারল্যান্ডসের কোম্পানি এএসএমএল, যা অত্যাধুনিক ‘লিথোগ্রাফি মেশিন’ তৈরি করে। এটি আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর চিপ তৈরির ভিত্তি। বিশেষ করে একমাত্র কোম্পানি যারা ইউইভি লিথোগ্রাফি মেশিন সরবরাহ করে। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে এএসএমএল চীনের কাছে সরাসরি এই যন্ত্র বিক্রি করতে পারছে না। একই সঙ্গে এনভিডিয়া চিপ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যারের ওপরও চীনের জন্য সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।
কিন্তু চীন থেমে থাকেনি। তারা পুরানো চিপ সংগ্রহ করেছে এবং কিছু ক্ষেত্রে অবৈধভাবে চিপ পাচার করেছে। ফলে ডিপসিক ও কোয়েনের মতো উন্নত এআই মডেল তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। হুয়াওয়ের ‘কিরিন’ চিপ ও স্থানীয় সেমিকন্ডাক্টর স্টার্টআপের অগ্রগতি বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা বিজ্ঞানীরা প্রাথমিক প্রোটোটাইপ মেশিন তৈরি করেছেন, যা ইউইভি আলো তৈরি করতে সক্ষম। যদিও এটি এখনো ব্যবহারযোগ্য চিপ উৎপাদন করতে পারছে না, তবে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্যকর চিপ তৈরির লক্ষ্য ধরা হয়েছে। গোপন প্রকল্পটিকে চীনের নিজস্ব ‘ম্যানহাটন প্রজেক্ট’ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এখানে এএসএমএল-এর সাবেক প্রকৌশলীও অংশ নিচ্ছেন, যাদের ছদ্মনাম ও সুরক্ষিত বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হুয়াওয়ে তাদের নিজস্ব এআই চিপ ‘অ্যাসেন্ড’ ব্যবহার করে ডিপসিক আর-১ চালাচ্ছে। এছাড়া ‘সুপারপড কানেক্ট’ প্রযুক্তির মাধ্যমে হাজার হাজার কম্পিউটিং ইউনিট সংযুক্ত করে শক্তি বহুগুণ বাড়িয়েছে। চীনা বিজ্ঞানীরা ‘কোয়াড্রপল প্যাটার্নিং’ নামে নতুন পেটেন্ট প্রযুক্তির মাধ্যমে পুরানো ডিইউভি মেশিন দিয়েও ২-ন্যানোমিটার চিপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| প্রকল্পের নাম | চীনের নিজস্ব ম্যানহাটন প্রজেক্ট |
| লক্ষ্য | ২০৩০ সালের মধ্যে কার্যকর এবং দ্রুত এআই চিপ তৈরি |
| প্রধান কোম্পানি | হুয়াওয়ে, SMIC এবং স্থানীয় সেমিকন্ডাক্টর স্টার্টআপ |
| মূল প্রযুক্তি | রিভার্স-ইঞ্জিনিয়ারিং, কোয়াড্রপল প্যাটার্নিং, ইউইভি/ডিইউভি মেশিন |
| বৈশ্বিক বাধা | এএসএমএল মেশিনে সরবরাহ সীমাবদ্ধতা, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা |
| অংশগ্রহণকারী | এএসএমএল-এর সাবেক প্রকৌশলী, চীনা বিজ্ঞানীরা |
| ব্যবহারিক প্রভাব | ডিপসিক, কোয়েন ও হুয়াওয়ের কিরিন চিপের উন্নতি |
| বাণিজ্যিক সম্ভাবনা | বড় পরিসরে উৎপাদন চ্যালেঞ্জ |
চীনের এই প্রচেষ্টা দেখাচ্ছে যে, রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক বাধা সত্ত্বেও দেশটি স্বনির্ভর সেমিকন্ডাক্টর প্রযুক্তি বিকাশের পথে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০২০-এর দশকের এই চিপ প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতের এআই শক্তির মানচিত্র পুনঃনির্ধারণ করতে পারে।