খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬
ফরিদপুরে আশিমুজ্জামান সেতুর ওপর থেকে উদ্ধার হওয়া একটি শক্তিশালী বোমা (আইইডি) সোমবার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) সদস্যদের বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। বোমাটি বালুর বস্তা দিয়ে ঘিরে রাখার পর কুমার নদীর পাড়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
পুলিশ পরিদর্শক শংকর কুমার ঘোষ জানান, এটি ছিল দূর নিয়ন্ত্রিত (রিমোট কন্ট্রোল) অত্যন্ত শক্তিশালী আইইডি বোমা। তার পাওয়ার সাপ্লাই সক্রিয় থাকায় বিস্ফোরিত হলে আশপাশের এলাকায় বড় ধরনের ধ্বংস এবং প্রাণহানি ঘটার সম্ভাবনা ছিল। “বিস্ফোরণের সময় বোমাটি প্রায় ১৫ ফিট উঁচুতে উঠে যেতে পারত,” তিনি বলেন।
উদ্ধার প্রক্রিয়ার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের গোয়ালচামট এলাকায় কুমার নদীর পাড় থেকে বোমাটি উদ্ধার করা হয়। এটি ছিল সেতুর ওপর জমা করা খড়ির গাদার মধ্যে রাখা একটি স্কুলব্যাগে। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ভোর থেকেই সেনাবাহিনী এলাকা ঘিরে রাখে। পরে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে অভিযান চালানো হয়।
স্কুলব্যাগটি তল্লাশি করার সময় তার ভেতর টেপ দিয়ে প্যাচানো একটি বোমাসদৃশ বস্তু পাওয়া যায়। জননিরাপত্তার স্বার্থে এটি দ্রুত সেতু এলাকা থেকে সরিয়ে নদীর পাড়ে বালুর বস্তা দিয়ে ঘিরে রাখা হয়। আশপাশের এলাকায় বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ কোনো ঝুঁকিতে না পড়ে।
এটিইউ-এর পুলিশ ইন্সপেক্টর শংকর সাহা বলেন, “বোমাটি অত্যন্ত প্রাণঘাতী ছিল এবং এটি কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় করা না হলে এলাকার মানুষের জন্য ভয়াবহ বিপদ তৈরি হতে পারত।”
| তথ্যের ধরণ | বিবরণ |
|---|---|
| উদ্ধার তারিখ | ১০ জানুয়ারি ২০২৬, দুপুর ১২:৩০ |
| নিষ্ক্রিয় তারিখ | ১১ জানুয়ারি ২০২৬, সকাল ১০:০০ |
| উদ্ধার স্থান | আশিমুজ্জামান সেতু, কুমার নদীর পাড়, ফরিদপুর |
| বোমার ধরন | দূর নিয়ন্ত্রিত আইইডি (রিমোট কন্ট্রোল) |
| অবস্থান | স্কুলব্যাগের মধ্যে, খড়ির গাদার ভেতর |
| নিরাপত্তা ব্যবস্থা | বালুর বস্তা দিয়ে ঘিরে রাখা, জনসাধারণকে সরানো |
| সম্ভাব্য ক্ষতি | বিস্ফোরণে বড় ধ্বংস, প্রাণহানি |
| বিশেষজ্ঞ দায়িত্ব | এটিইউ-এর পুলিশ সদস্য শংকর কুমার ঘোষ ও টিম |
ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকা বর্তমানে নিরাপত্তার আওতায় রাখা হয়েছে। পুলিশ ও বিশেষজ্ঞ টিম দ্রুত তদন্ত চালিয়ে বোমা প্রাপ্তির উৎস এবং দায়ীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে। এই ঘটনায় জেলার সাধারণ মানুষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সতর্কতা জারি রয়েছে।