ইরানের সঙ্গে চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত খুব শিগগিরই এক ‘নতুন ধাপে’ প্রবেশ করতে যাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মিত্র দেশগুলোকে পাশে চেয়ে সামরিক ও কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করার পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রশাসন। মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন যুক্তরাষ্ট্রের এমন কৌশলগত পরিবর্তনের কথা প্রকাশ্যে এনেছেন।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে স্পিকার মাইক জনসন স্পষ্ট করেন, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সময়ের মধ্যে রণকৌশলের নতুন ধাপে পা রাখছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই পরবর্তী পদক্ষেপে আন্তর্জাতিক মিত্ররা মার্কিন বাহিনীকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা দেবে এবং তারা সফলভাবে মিশন শেষ করতে সক্ষম হবে।
ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব ও নীতিকে একটি বড় হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে স্পিকার দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্ত পদক্ষেপের কারণে সাপের মাথা কেটে ফেলা সম্ভব হয়েছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা বা বৈঠকের টেবিলে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন, কারণ তাদের ওপর আস্থা রাখা যায় না—যেটিকে বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন তিনি। এছাড়া স্পিকার জনসন আরও দাবি করেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গৃহীত পদক্ষেপের কারণেই ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত থাকতে বাধ্য হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ববর্তী প্রশাসনেরও প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য ছিল।
সামরিক কৌশলের এই নতুন ধাপের স্পষ্ট প্রতিফলন ইতোমধ্যেই সমুদ্রসীমায় দেখা যাচ্ছে। গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলসীমায় ইরানি বন্দরগুলোর ওপর কঠোর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থাগুলোর সূত্রমতে, এই সমুদ্র অবরোধ সফল করতে মার্কিন নৌবাহিনী এ পর্যন্ত অন্তত ৭০টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য করেছে, যার সংখ্যা দুদিন আগেও ছিল ৬৮টি। শুধু পথ পরিবর্তনই নয়, সন্দেহভাজন দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন সেনা তল্লাশি চালিয়েছে এবং অন্য তিনটি জাহাজকে চলাচলের অযোগ্য বা অকেজো করে দেওয়া হয়েছে।
সমুদ্রে এই কঠোর অবরোধ ও নিয়মিত টহল কার্যক্রম জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের ইউএসএস জন ফিন এবং ইউএসএস রসের মতো অত্যাধুনিক গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ ২০টিরও বেশি শক্তিধর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রেখেছে।
কূটনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার এই চরম মুহূর্তে ওয়াশিংটনের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি বিতর্কিত মানচিত্র প্রকাশ করেন, যেখানে আন্তর্জাতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’কে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভূখণ্ড হিসেবে চিত্রায়িত করা হয়। এর ঠিক এক দিন আগেই এক রাজনৈতিক সমাবেশে তিনি অঞ্চলটিকে ‘আমেরিকান ভূখণ্ড’ বলে অভিহিত করেছিলেন, যা মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের জটিলতা বাড়িয়ে দিয়েছে।


