Khaborwala Online Desk
প্রকাশ: 4শে পৌষ ১৪৩২ | ১৮ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের বড় পালশা গ্রামে পুকুর খননকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ একটি ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে ভেকু (এস্কেভেটর) মেশিনের চাকার নিচে চাপা পড়ে জুবায়ের হোসেন (২৫) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ক্ষুব্ধ জনতা ঘটনাস্থলেই ভেকু মেশিনে আগুন ধরিয়ে দেয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়—বরং পরিকল্পিতভাবে জুবায়েরকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত জুবায়ের হোসেন বড় পালশা গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন এবং পারিবারিকভাবে কৃষিকাজের ওপরই নির্ভরশীল ছিলেন। পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন নিয়ে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় কৃষকেরা দাবি করে আসছিলেন, ফসলি জমিতে পুকুর খনন হলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং পরিবেশগত ক্ষতির সম্ভাবনাও রয়েছে।
বুধবার রাতের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভীমনগর গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি ভেকু দিয়ে পুকুর খননের কাজ শুরু করলে স্থানীয়রা, যার মধ্যে জুবায়েরও ছিলেন, বাধা দেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাক্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ভেকুর চাকার নিচে ফেলে জুবায়েরকে চাপা দেওয়া হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মোহনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পরপরই উত্তেজিত জনতা ভেকু মেশিনে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ভেকু চালক আবদুল হামিদকে (২৮) আটক করে। আটক চালক টাঙ্গাইল জেলার কাদিমহামজানি উত্তরপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনাস্থল ও নিহতের বাড়িতে যান মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার। তিনি পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেন। ইউএনও বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি একটি সংঘর্ষজনিত দুর্ঘটনা বলে জানা গেলেও পরিবারের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আইন অনুযায়ী তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম মঈনুদ্দীন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেকেই এটিকে কৃষিজমি রক্ষার আন্দোলনের ওপর নির্মম দমন হিসেবে দেখছেন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জোরালো হচ্ছে।