খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৫
বাংলাদেশের ছয় ঋতুর তৃতীয় হলো শরৎকাল। ভাদ্র ও আশ্বিন মাস মিলে এই ঋতুর আগমন ঘটে। ইংরেজিতে একে বলা হয় ‘Autumn’, আর উত্তর আমেরিকায় পরিচিত ‘Fall’ নামে। বর্ষার অতিবর্ষণ শেষে যখন প্রকৃতি শান্ত-সুনিবিড় রূপে সেজে ওঠে, তখনই প্রাণের সজীবতা, রঙ, রূপ, রস আর স্নিগ্ধতা নিয়ে আসে শরৎ।
আকাশে মেঘের খেলা, মাঠে ধানের হাসি
শ্রাবণের বিরামহীন বাদল শেষে শরৎকালে আকাশে ভেসে বেড়ায় শুভ্র তুলোর মতো মেঘ। গাঢ় নীল আকাশে তাদের চলাচল এক অনন্য দৃশ্য। মাটিতে, সবুজ ধানের ক্ষেতে রোদ-ছায়ার লুকোচুরি খেলা করে। ধানের চারা যেন খুশিতে দুলতে থাকে। বাতাস হয় স্বচ্ছ, নির্মল, প্রাণখোলা।
ফুল-ফল ও প্রকৃতির উৎসব
শরৎকাল মানেই শিউলি ফুলের সুগন্ধে ভোরবেলা মোহময় হয়ে ওঠা। দূর্বাঘাসের ওপর ভেজা শিউলির আস্তরণ যেন শুভ্র চাদর। কাশবনের দোলা, নদীর পাড়ে সাদা ফুলের সমারোহ, আর পাখিদের কলতান শরৎকে করে তোলে আরও সজীব। এসময় প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তোলে হিমঝুরি, ছাতিম, পাখিফুল, পান্থপাদপ, পদ্ম, শাপলা, জুঁই, মল্লিকা, মাধবী, দোলনচাঁপা, জারুল, নয়নতারা, বোগেনভেলিয়া, কাশফুলসহ নানা ফুল। ফলের ঝুলিতে থাকে আমলকি, তাল, জলপাই, করমচা, চালতা প্রভৃতি।
উৎসব ও আবেগের ঋতু
শরৎ বাংলার কৃষককে দেয় নবান্নের প্রতীক্ষার আনন্দ। আবার বাঙালি সংস্কৃতিতে শারদীয় দুর্গোৎসব শরৎকে উৎসবমুখরতায় ভরে তোলে। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আরাধনা ও ভক্তির আবহে শরৎ একদিকে নিয়ে আসে আনন্দ, অন্যদিকে বিজয়ার বিদায়ের বেদনায় হৃদয়কে করে তোলে ব্যথিত।
জ্যোৎস্নার অমলিন সুধা
শরৎকালের রাতের চাঁদ জ্যোৎস্নার ফুল ঝরায়। মেঘমুক্ত আকাশ ভরে ওঠে রূপকথার মতো আলোকছটায়। ছেঁড়া ছেঁড়া সাদা মেঘ আর উড়ন্ত ঘুড়ির আনন্দ মিলে যায় শৈশবের কল্পনায়।
শুভ্রতা ও পবিত্রতার প্রতীক
বর্ষার লাগাতার বৃষ্টি প্রকৃতিকে ধুয়ে-মুছে যায় পরিষ্কার করে। আর সেই ধোয়ামোছা প্রকৃতির ওপর নেমে আসে শরতের নির্মল শুভ্রতা। তাই শরৎকে বলা যায় পবিত্রতার প্রতীক, ঝকঝকে শুভ্রতার মূর্ত প্রতীক।
শরৎকাল শুধু একটি ঋতু নয়; এটি বাংলার প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও আবেগের বহুরঙা উৎসব—এক অপরূপ স্নিগ্ধতার সমাহার।
খবরওয়ালা/এন