খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬
জাতীয় সম্পদ ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জাটকা নিধন রোধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে নোয়াখালীতে বড় ধরনের একটি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে নোয়াখালী সদর উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে ২৫০০ কেজি (২.৫ টন) জাটকা ইলিশ জব্দ করেছে। এই অবৈধ মৎস্য পরিবহনের দায়ে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাতে গোপন সংবাদ আসে যে একদল অসাধু ব্যবসায়ী সুবর্ণচর থেকে বিপুল পরিমাণ জাটকা ইলিশ বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে যাচ্ছে। সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ে ডিবি পুলিশের একটি দল সদর উপজেলার সোনাপুর-চেয়ারম্যানঘাট সড়কের মান্নান বাজার এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসায়। রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে দুটি দ্রুতগামী পিকআপ ভ্যানকে সন্দেহবশত থামার সংকেত দেওয়া হয়। তল্লাশি চালিয়ে পিকআপ দুটির ভেতর থেকে ছোট আকারের জাটকা ইলিশ বোঝাই করা অসংখ্য ঝুড়ি পাওয়া যায়। প্রাথমিক ওজন শেষে দেখা যায় সেখানে মোট ২৫০০ কেজি জাটকা রয়েছে।
আটককৃত ছয়জনই নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার বাসিন্দা। তাদের বিস্তারিত পরিচয় নিচে টেবিল আকারে প্রদান করা হলো:
| ক্রমিক | নাম | বয়স | ঠিকানা (উপজেলা) |
| ১ | মো. আরিফ | ২৫ | সুবর্ণচর |
| ২ | মো. মাসউদ | ২৯ | সুবর্ণচর |
| ৩ | মো. আকবর হোসেন সবুজ | ৩৪ | সুবর্ণচর |
| ৪ | মো. সালাউদ্দিন | ৩৫ | সুবর্ণচর |
| ৫ | মো. নুরুল হুদা | ৩৫ | সুবর্ণচর |
| ৬ | মো. জাবেদ হোসেন | ৩০ | সুবর্ণচর |
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে আটককৃতদের সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহনেওয়াজ তানভীরের ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। অভিযুক্তরা ১৯৫০ সালের মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইনের আওতায় অপরাধ স্বীকার করেন। আদালত তাদের দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অনাদায়ে প্রত্যেকের এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে আসামিরা তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করায় তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
জেলা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফ উদ্দীন জানান, জব্দকৃত জাটকাগুলো সরকারি বিধি মোতাবেক স্থানীয় বিভিন্ন এতিমখানা, মাদ্রাসা ও দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। প্রশাসনের এই তড়িৎ পদক্ষেপের ফলে জাতীয় সম্পদ নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে।
মৎস্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ইলিশ সম্পদ রক্ষায় ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত জাটকা নিধন, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই সময়ে যারা আইন অমান্য করে জাটকা ধরবে বা পরিবহন করবে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে। গোয়েন্দা পুলিশের এই অভিযানকে স্থানীয় সচেতন মহল সাধুবাদ জানিয়েছে।