বরিশাল রেঞ্জ পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) কার্যালয়ের সামনের ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে এক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর সোয়া ২টার দিকে এই আকস্মিক বিস্ফোরণের ঘটনায় পুরো এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মহাসড়কে চলাচলকারী পথচারী ও যানবাহন চালকরা দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করেন।
ঘটনার সময় উপস্থিত স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতাকর্মী একটি ঝটিকা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। স্থানীয় কাশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ এলাকা থেকে আসা অর্ধশতাধিক লোকের একটি দল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দিতে অগ্রসর হয়। এরপর তারা ডিআইজি কার্যালয় সংলগ্ন মূল মহাসড়কে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং দ্রত এলাকা ত্যাগ করে পালিয়ে যায়।
ঘটনাস্থলের ঠিক বিপরীতে অবস্থিত ‘ব্রাদার্স স্টোর’-এর ব্যবসায়ী মো. তামিম এই ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, হঠাৎ কাশিপুরের দিক থেকে আসা বেশ কিছু মানুষ স্লোগান দিতে দিতে সামনে বাড়ে। তারা ডিআইজি অফিসের সামনের প্রধান সড়কের ওপর একটি ককটেল ফাটিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। কাছাকাছি থাকা একজন নারী চা-দোকানি জানান, বিকট শব্দের পর চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে তিনি দোকান ছেড়ে সরে যান এবং কয়েকজনকে স্লোগান দিতে দিতে পালিয়ে যেতে দেখেন।
খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং প্রাথমিক আলামত সংগ্রহের কাজ শুরু করে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আনিসুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিকট শব্দ শুনেই পুলিশের মোবাইল টিম সেখানে উপস্থিত হয়। মহাসড়কের ওপর পোড়া দাগসহ বিস্ফোরণের কিছু প্রাথমিক আলামত পাওয়া গেলেও আশপাশের এলাকাগুলোতে অন্য কোনো তাজা বিস্ফোরক মেলেনি।
পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুর রহমান আরও যোগ করেন, ঠিক কীভাবে এবং কী উদ্দেশ্যে এই ধাওয়া বা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করতে ও হামলাকারীদের শনাক্তে ডিআইজি কার্যালয়সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। থমথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে উক্ত মহাসড়ক এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


