খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 27শে মাঘ ১৪৩২ | ৯ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মেস্তায়ার ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০২৬ সালের লা লিগায় নিজেদের শতভাগ জয়ের ধারা অটুট রাখল রিয়াল মাদ্রিদ। ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি কাগজে-কলমে সহজ মনে হলেও বাস্তবে ছিল ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতার পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত ২–০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লস ব্লাঙ্কোস, আর এই তিন পয়েন্টে তারা লিগ টেবিলে বার্সেলোনার এক পয়েন্টের ব্যবধানে পৌঁছে যায়।
নিষেধাজ্ঞার কারণে ভিনিসিয়াস জুনিয়র এবং চোটে থাকা রদ্রিগো গোয়েস—এই দুই গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে ছাড়াই নামতে হয় রিয়ালকে। কোচ আলভারো আরবেলোয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় ৪-৪-২ ফরমেশন বেছে নেন। আক্রমণে একসঙ্গে দেখা যায় কিলিয়ান এমবাপ্পে ও তরুণ গঞ্জালো গার্সিয়াকে। প্রথমার্ধে এই জুটি খুব বেশি ছন্দ খুঁজে পায়নি; বল দখল থাকলেও চূড়ান্ত তীক্ষ্ণতার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট।
ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে প্রকৃত অর্থে গোলের সুযোগ ছিল হাতে গোনা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুযোগটি আসে রাইট-ব্যাক ডেভিড হিমেনেজের পা থেকে। এটি ছিল তার লা লিগা অভিষেক ম্যাচ। ডান দিক থেকে কাটা ভেতরে ঢুকে নেওয়া শক্ত শট ভ্যালেন্সিয়া গোলরক্ষক স্তোল দিমিত্রিয়েভস্কি দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন। এই সেভ ছাড়া প্রথমার্ধে তাকে খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে গতি বাড়ায় রিয়াল। মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হয় এবং উইং থেকে আক্রমণের তীব্রতা বাড়তে থাকে। ৬৫ মিনিটে অবশেষে প্রতিফলন আসে স্কোরলাইনে। আলভারো কারেরাস বাম প্রান্তে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে এগিয়ে গিয়ে কাছের পোস্ট দিয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন। এই গোল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
গোল হজমের পর ভ্যালেন্সিয়া দ্রুত সমতায় ফেরার চেষ্টা করে। লুকাস বেলত্রানের নেওয়া এক শট পোস্টে লেগে বাইরে চলে গেলে স্বাগতিকদের হতাশা বাড়ে। এটিই ছিল তাদের সবচেয়ে কাছাকাছি চেষ্টা। এরপর রিয়ালের সংগঠিত রক্ষণ ভেঙে আর তেমন সুযোগ তৈরি করতে পারেনি ভ্যালেন্সিয়া।
স্টপেজ টাইমের প্রথম মিনিটে জয় নিশ্চিত করে রিয়াল। ব্রাহিম দিয়াসের বুদ্ধিদীপ্ত পাস থেকে এমবাপ্পে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। এই গোলটি শুধু ম্যাচ নয়, শিরোপা লড়াইয়ের দৌড়েও রিয়ালকে বড় আত্মবিশ্বাস দেয়।
মোটের ওপর পারফরম্যান্সটি ছিল নিয়ন্ত্রিত কিন্তু ঝলমলে নয়। তবু শিরোপা দৌড়ে এমন জয়ই সবচেয়ে মূল্যবান। এই ফলাফলে রিয়াল সাময়িকভাবে শীর্ষে ওঠার বাস্তব সুযোগ তৈরি করেছে। আগামী সপ্তাহে ফর্মে থাকা রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে জয় পেলে তারা চাপ বাড়াতে পারবে বার্সেলোনার ওপর, যারা সোমবার রাতে জিরোনার মুখোমুখি হবে।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান
| সূচক | ভ্যালেন্সিয়া | রিয়াল মাদ্রিদ |
|---|---|---|
| গোল | ০ | ২ |
| বল দখল (%) | ৪৬ | ৫৪ |
| শট (টার্গেটে) | ৯ (২) | ১২ (৫) |
| কর্নার | ৪ | ৬ |
| ফাউল | ১৪ | ১১ |
এই জয়ে স্পষ্ট বার্তা দিল রিয়াল মাদ্রিদ—ছন্দ না থাকলেও ফল আদায়ে তারা এখনো নির্ভরযোগ্য, আর শিরোপার দৌড়ে তারা একেবারেই হাল ছাড়েনি।