চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার প্রথম দিনেই মায়ের গুরুতর অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা কেন্দ্রে দেরিতে পৌঁছে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা এক শিক্ষার্থীর ঘটনাটি সাড়া ফেলেছে সামাজিক ও গণমাধ্যমে। রাজধানীর সরকারি মিরপুর বাঙলা কলেজ কেন্দ্রে ওই পরীক্ষার্থী পরীক্ষার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর কেন্দ্রে পৌঁছালেও নিয়ম অনুযায়ী তাকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি।
পরবর্তীতে ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়। বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে এবং তারা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার এক বিবৃতিতে বলেন, “মানবিক বিবেচনায় ওই শিক্ষার্থীর বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ সংক্রান্ত আইন ও বিধির আলোকে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। তার এ দুঃসময়ে আমরাও সমব্যথী।”
তিনি আরও বলেন, “পরীক্ষার্থীকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। আইনসঙ্গত ও বাস্তবসম্মত সমাধানের জন্য যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, মায়ের হঠাৎ স্ট্রোক করার পর অসুস্থ মাকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েই পরীক্ষা কেন্দ্রে ছুটে আসেন শিক্ষার্থী আনিসা আহমেদ। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের বাইরে কেন্দ্রে পৌঁছানোর কারণে তাকে পরীক্ষা দিতে দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রের গেটের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়া আনিসার ভিডিও ভাইরাল হয়ে দেশজুড়ে মানুষের সহানুভূতি ও ক্ষোভের জন্ম দেয়।
আইনজীবী, শিক্ষক ও সাধারণ মানুষ বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণে দেখার আহ্বান জানান। বর্তমানে সংশ্লিষ্টরা চাইছেন, যেন আনিসা বাকি পরীক্ষাগুলো স্বাভাবিকভাবে দিতে পারে এবং প্রথম দিনের পরীক্ষাটিও আইনি কাঠামোর মধ্যে থেকে নেওয়ার ব্যবস্থা হয়।
খবরওয়ালা/এমএজেড



