খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ জুন ২০২৫
আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের শিক্ষা ও কর্মজীবনের পটভূমি তুলে ধরে একটি পোস্ট দিয়েছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ বোরহান কবির। আজ শুক্রবার তিনি ফেসবুকে এই পোস্টটি দেন। তাঁর দেওয়া পোস্টটি খবরওয়ালা পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো। তিনি পোস্টে উল্লেখ করেন,
’এটাই আসিফ নজরুল—
গতকাল হঠাৎ করেই আসিফ নজরুল প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টার-এর সমালোচনায় মুখর হন। যে পত্রিকা তাকে এতদিন ধরে পেলেপুষে বিপ্লবী বুদ্ধিজীবী বানিয়েছে, এখন আসিফ নজরুল তার ওপরই ক্ষুব্ধ হলেন কেন?
কারণটা পরিষ্কার—পিনাকী-ইলিয়াসদের হাত থেকে বাঁচার জন্য, তাদের নেক নজরে আসার জন্য। যদিও সেটাই মুখ্য নয়, আসল বিষয় হলো, নিজের স্বার্থে আসিফ নজরুল সবকিছু করতে পারেন। এটাই তার চরিত্র।
আসিফ নজরুল ওরফে নজরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে আমার এক বছরের সিনিয়র ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় আমরা দুজনেই লেখালেখির দিকে ঝুঁকে পড়ি। তাই আমাদের সম্পর্কটাও বেশ ভালো ছিল।
আসিফ নজরুলের ব্যাচে সবচেয়ে মেধাবী ছিলেন শামসুদ্দিন ভাই। অনার্সে তিনি প্রথম হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারেননি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এরশাদুল বারী নামে এক খাঁটি রাজাকার আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। আসিফ নজরুল অলৌকিকভাবে তার সান্নিধ্যে চলে যান। এলএল.এম. পরীক্ষায় এরশাদুল বারী তাকে ‘সেরা মেধাবী’ ছাত্র বানিয়ে দেন। শিক্ষক রাজনীতির জটিল চালে বারী শামসুদ্দিন ভাইকে বাদ দিয়ে নজরুল ইসলামকে শিক্ষক পদে নিয়োগ দিতে সক্ষম হন।
পরে ৭১-এর ঘাতক-দালাল বিরোধী আন্দোলনে সেই বারীর বিরুদ্ধেই অবস্থান নেন নজরুল।
সাংবাদিকতায় আসিফ নজরুলের প্রকৃত পথপ্রদর্শক ছিলেন শাহরিয়ার কবির। শাহরিয়ার ভাই রীতিমতো জোর করে তাকে বিচিত্রায় চাকরি পাইয়ে দেন। কিন্তু সুযোগ বুঝে শাহরিয়ার ভাইয়ের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে তিনি দ্বিধা করেননি। যখন শাহরিয়ার কবির চরম অসুস্থ অবস্থায় ‘বিবেকের বন্দী’ হয়ে কারাগারে ছিলেন, তখন আসিফ নজরুলের আচরণ দেখে মনে হয়েছে তিনি যেন শাহরিয়ার ভাইকে চেনেনই না।
শহীদ জননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত ‘একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি’র সঙ্গে আসিফ নজরুলের তৎপরতা সবার জানা। কিন্তু পরে দেখা গেল, তিনি আসলে ঘরের শত্রু বিভীষণ।
যুদ্ধাপরাধী আজহার মুক্তি পাওয়ার পর যে ব্যক্তি “আলহামদুলিল্লাহ” বলে, সে আর যাই হোক, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ হতে পারে না।
এখন আসিফ নজরুল প্রথম আলো-র বিরুদ্ধেও অবস্থান নিয়েছেন।
এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। নিজের স্বার্থে আসিফ নজরুল সব কিছু করতে পারেন।
এমন একজন নির্লজ্জ সুবিধাবাদী মানুষ যখন জাতির বিবেক সাজে—তখন চিৎকার করে হেসে উঠতে ইচ্ছে করে।
খবরওয়ালা/এমএজেড