দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি এ রোগের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম উপসর্গে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৩১৪ জনের শরীরে সন্দেহজনক হামের লক্ষণ শনাক্ত করা হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।
নতুন করে ১ হাজার ৩১৪ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি দেশে সংক্রমণের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সময়ে চারজনের মৃত্যুর ঘটনাও পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরছে। তবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মৃত ব্যক্তিদের বয়স, লিঙ্গ, অবস্থান কিংবা তাঁদের মধ্যে কতজনের পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি কিংবা শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমে ছড়ানো ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে অন্য ব্যক্তিরাও সংক্রমিত হতে পারেন। জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এ রোগের সাধারণ লক্ষণ। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে হাম গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।
হামের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকাদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে নতুন রোগী শনাক্ত ও মৃত্যুর তথ্য উঠে এলেও সংক্রমণের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে পরবর্তী সময়ের তথ্যও গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত নজরদারি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।


