খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সূচিত হয়েছিল এক নতুন অধ্যায়। সেই বছরের ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দীর্ঘ ১৮ মাস রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন শেষে এখন বিদায়লগ্নে দাঁড়িয়ে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সাথে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে ঐতিহাসিক গণভোট। এই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কার্যত শেষ হচ্ছে বর্তমান সরকারের মেয়াদ, আর শুরু হচ্ছে এক নতুন রাজনৈতিক যাত্রার।
গত মঙ্গলবার ছিল এই সরকারের শেষ দাপ্তরিক কর্মদিবস। যদিও নতুন সরকার শপথ না নেওয়া পর্যন্ত উপদেষ্টারা সাংবিধানিক দায়িত্বে থাকছেন, তবে মন্ত্রণালয়গুলোতে ইতিমধ্যেই বেজে উঠেছে বিদায়ের সুর। অধিকাংশ উপদেষ্টা তাঁদের নথিপত্র গুছিয়ে নিয়েছেন এবং প্রিয় কর্মস্থল বা ব্যক্তিগত জীবনে ফেরার প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
| উপদেষ্টার নাম | বর্তমান দায়িত্ব (মন্ত্রণালয়) | দায়িত্ব পরবর্তী পরিকল্পনা |
| ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ | অর্থ ও পরিকল্পনা | ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতায় প্রত্যাবর্তন (মার্চ থেকে) |
| ড. আসিফ নজরুল | আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক | ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা ও গবেষণায় ফেরা |
| মো. তৌহিদ হোসেন | পররাষ্ট্র বিষয়ক | বিশ্রাম গ্রহণ এবং কলাম ও বই লেখালেখি |
| সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান | পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন | নিজ সংগঠন ‘বেলা’ (BELA)-র কার্যক্রমে ফেরা |
| আলী ইমাম মজুমদার | খাদ্য ও ভূমি | সামাজিক-সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও গণমাধ্যমে কলাম লেখা |
| মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান | বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ | ইবাদত ও রমজানের পর লেখালেখি ও পাঠাভ্যাস |
| শারমীন এস মুরশিদ | সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু | মানবাধিকার সংস্থা ‘ব্রতী’-তে ফেরা ও অভিজ্ঞতা লেখা |
বিদায়লগ্নেও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ও নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কর্মব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বুধবার তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (ANFREL)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। জানা গেছে, তিনি আগামীকাল রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে সাধারণ নাগরিক হিসেবে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এটি কেবল একটি ভোট নয়, বরং একটি দীর্ঘ সংস্কার প্রক্রিয়ার সফল সমাপ্তির প্রতীক।
শিক্ষাজীবনের সাথে সম্পৃক্ত উপদেষ্টাদের মধ্যে নিজ আঙিনায় ফেরার প্রবল আকুতি দেখা গেছে। আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল তাঁর প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে ফেরার জন্য গভীর অপেক্ষার কথা জানিয়েছেন। একইভাবে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ মার্চ মাস থেকেই ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
অধিকাংশ উপদেষ্টা রাষ্ট্র পরিচালনার এই বিরল অভিজ্ঞতাকে কলমে তুলে ধরতে চান। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান দুজনেই লেখালেখির জগতে ফেরার ইচ্ছা পোষণ করেছেন। অন্যদিকে, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও শারমীন এস মুরশিদ আবারও ফিরে যাচ্ছেন তাঁদের দীর্ঘদিনের নাগরিক অধিকার আদায়ের মঞ্চে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে নারীদের অধিকার ও পরিবেশ রক্ষায় তাঁরা আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
আগামীকালের নির্বাচন কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার প্রচেষ্টার এক চূড়ান্ত পরীক্ষা। নতুন সূর্যের প্রত্যাশায় বাংলাদেশ এখন উন্মুখ হয়ে আছে এক শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের দিকে।