খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে ২০২৬
দীর্ঘ ৮,০৬০ দিনের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধার করেছে আর্সেনাল। দীর্ঘ ২২ বছর পর উত্তর লন্ডনের এই ক্লাবটির লিগ জয় নিশ্চিত হয়েছে। গত রাতে বোর্নমাউথের মাঠে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি ড্র করায় গানারদের এই ঐতিহাসিক শিরোপা জয় নিশ্চিত হয়। ক্লাবটির কিংবদন্তি কোচ আর্সেন ওয়েঙ্গার এবং পরবর্তীতে উনাই এমেরির বিদায়ের পর মিকেল আরতেতার হাত ধরে এই সাফল্য এলো। টানা তিন মৌসুম রানার্সআপ হওয়ার হতাশা ঝেড়ে ফেলে শেষ পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থান দখল করেছে আরতেতার শিষ্যরা। ২০০৪ সালে আর্সেন ওয়েঙ্গারের বিখ্যাত ‘ইনভিন্সিবলস’ (অপরাজিত) দলের শিরোপা জয়ের পর এটিই আর্সেনালের প্রথম লিগ শিরোপা।
চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে আর্সেনালের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে মূল চাবিকাঠি ছিল তাদের রক্ষণভাগের কঠোর শৃঙ্খলা এবং সেট পিস থেকে গোল করার অসাধারণ দক্ষতা। কোচ মিকেল আরতেতা আক্রমণাত্মক ফুটবলের চেয়ে বাস্তবমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলের ওপর বেশি জোর দিয়েছেন। আর্সেনাল চলতি মৌসুমে লিগে সবচেয়ে কম গোল হজম করার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সংখ্যক ম্যাচে নিজেদের জাল অক্ষত (ক্লিন শিট) রাখতে সক্ষম হয়েছে। নিচে দলটির চলতি মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগের মূল পরিসংখ্যানগত সাফল্য তুলে ধরা হলো:
| ক্যাটাগরি / পারফরম্যান্স সূচক | চলতি মৌসুমে আর্সেনালের পরিসংখ্যান |
| লিগে মোট হজমকৃত গোল | ২৬ (সবচেয়ে কম) |
| ক্লিন শিটের সংখ্যা | ১৯টি (সবচেয়ে বেশি) |
| ১-০ ব্যবধানে জয়ের সংখ্যা | ৮টি (সবচেয়ে বেশি) |
| সেট পিস থেকে প্রাপ্ত গোল | ২৪টি (সবচেয়ে বেশি) |
| কর্নার থেকে প্রাপ্ত গোল | ১৮টি |
চলতি মৌসুমে ইউরোপের শীর্ষ স্তরের ফুটবলে সেট পিস ব্যবহারের ক্ষেত্রে আর্সেনাল এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২০১১-১২ মৌসুমের পর থেকে ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতাগুলোতে এক মৌসুমে সেট পিস থেকে সবচেয়ে বেশি গোল করার রেকর্ডে আর্সেনাল এখন ইতিহাসের তৃতীয় স্থানে রয়েছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এই মৌসুমে সেট পিস থেকে আর্সেনাল মোট ৩৫টি গোল করেছে। ইউরোপীয় ফুটবলের ইতিহাসে তাদের ওপরে রয়েছে কেবল দুটি দল:
রিয়াল মাদ্রিদ (২০১২-১৩ মৌসুম): ৩৮টি গোল
আতলেতিকো মাদ্রিদ (২০১৪-১৫ মৌসুম): ৩৭টি গোল
চলতি ২০২৫-২৬ মৌসুমে আর্সেনালের সামনে এখনো দুটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে এবং অপরটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনাল ম্যাচ। ফলে রিয়াল মাদ্রিদ ও আতলেতিকো মাদ্রিদের এই ঐতিহাসিক রেকর্ড অতিক্রম করার সুযোগ এখনো আরতেতার দলের সামনে রয়েছে।
বিগত ১০ মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটিকে ৬টি লিগ শিরোপা এনে দিয়ে পেপ গার্দিওলা টুর্নামেন্টে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য তৈরি করেছিলেন। কেবল লিভারপুলই এক মৌসুমে সিটির এই আধিপত্যে ফাটল ধরাতে পেরেছিল। তবে চলতি মৌসুমে গার্দিওলার দল রানার্সআপ হওয়ায় তার ক্যারিয়ারে এই প্রথম টানা দুই মৌসুম শিরোপাবঞ্চিত থাকার ঘটনা ঘটল। ইতিমধ্যে গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি ছাড়ার গুঞ্জনও জোরালো হয়েছে।
সাম্প্রতিক ফুটবল ইতিহাসে দীর্ঘ সময় পর কোনো বড় শিরোপা পুনরুদ্ধারের যে নজির রয়েছে, যেমন—লিভারপুলের ৩০ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জয়, নাপোলির ৩৩ বছর পর সিরি-আ পুনরুদ্ধার কিংবা আর্জেন্টিনার ৩৬ বছর পর বিশ্বকাপ জয়; আর্সেনালের এই ২২ বছর পর লিগ জয়কে ঠিক একই কাতারে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ঘরোয়া লিগ জয়ের মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করার পর আরতেতার আর্সেনালের সামনে এখন ডাবল শিরোপা জয়ের সুযোগ। আগামী ৩০ মে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইর (পিএসজি) মুখোমুখি হবে গানাররা। ক্লাব ইতিহাসে এর আগে কখনো চ্যাম্পিয়নস লিগ না জেতা আর্সেনাল এই ম্যাচটি জিতে তাদের এই ঐতিহাসিক মৌসুমকে পূর্ণতা দিতে মুখিয়ে আছে। ইয়ুর্গেন ক্লপের বিদায় এবং গার্দিওলার সম্ভাব্য প্রস্থানের এই সন্ধিক্ষণে, ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই জয় প্রিমিয়ার লিগে সম্পূর্ণ নতুন এক ‘আরতেতা-যুগ’-এর সূচনা করতে যাচ্ছে।