খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২০ মে ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মহোৎসব শুরু হতে বাকি রয়েছে আর মাত্র ২২ দিন। বিশ্ব ফুটবলের এই মেগা আসরকে সামনে রেখে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও রোমাঞ্চকর পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এ পর্যন্ত এমন ২২ জন ফুটবলার রয়েছেন, যাদের জন্ম এক দেশে হলেও তারা মাঠ কাঁপিয়েছেন এবং শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছেন অন্য দেশের জার্সি গায়ে।
ভিন্ন দেশে জন্মগ্রহণ করেও অন্য দেশের হয়ে বিশ্বজয়ের এই ঐতিহাসিক ধারার সূচনা হয়েছিল ১৯৩৪ সালের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ আসরে। সেবার স্বাগতিক ইতালি তাদের দলে সাতজন বিদেশী বংশোদ্ভূত ফুটবলারকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল এবং তাদের ওপর ভর করেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ‘অরিয়ুন্দি’ (Oriundi) নামে পরিচিত এই ফুটবলারদের মধ্যে চারজনের জন্মই হয়েছিল আর্জেন্টিনায়। তারা হলেন— আত্তিলিও দেমারিয়া, এনরিকে গুয়াইতা, লুইস মন্টি এবং রাইমুন্ডো ওরসি। ইতালির (আজ্জুরি) ঐতিহাসিক ট্রফি জয়ে এই চার আর্জেন্টাইন তারকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন।
সেই বিশ্বজয়ী ইতালি স্কোয়াডে আর্জেন্টিনার এই চারজন ছাড়াও আরও তিনজন অন্য দেশে জন্মানো ফুটবলার ছিলেন। তারা হলেন— ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া আনফিলোগিনো গুয়ারিসি, ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া ফেলিস বোরেল এবং তত্কালীন অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরিতে (যা বর্তমান ক্রোয়েশিয়ার অন্তর্ভুক্ত) জন্ম নেওয়া মারিও ভার্গলিয়েন।
১৯৩৪ সালের ইতালি দলের অন্যতম সদস্য লুইস মন্টি ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অবিশ্বাস্য ও অনন্য রেকর্ড গড়েছেন। তিনি বিশ্বমঞ্চে দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে ফাইনাল খেলা একমাত্র ফুটবলার। ১৯৩০ সালের প্রথম বিশ্বকাপে তিনি নিজ জন্মভূমি আর্জেন্টিনার হয়ে ফাইনালে মাঠে নেমেছিলেন, যেখানে উরুগুয়ের কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে। এর ঠিক চার বছর পর, ১৯৩৪ সালের ফাইনালে তিনি ইতালির জার্সি গায়ে মাঠে নামেন এবং চেকোস্লোভাকিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শিরোপা উঁচিয়ে ধরেন।
পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিশ্বকাপে এমন অনেক ফুটবলার চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন, যারা জন্মভূমির গণ্ডি পেরিয়ে অন্য দেশের কিংবদন্তিতে পরিণত হয়েছেন। এদের মধ্যে ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপজয়ী দলের অন্যতম দুই স্তম্ভ মার্সেল দেসাইলি (জন্ম: ঘানা) এবং প্যাট্রিক ভিয়েরা (জন্ম: সেনেগাল) অন্যতম। এছাড়া জার্মানির ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী দলের দুই তারকা স্ট্রাইকার মিরোস্লাভ ক্লোসে এবং লুকাস পোডলস্কি উভয়েই পোল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অন্যদিকে, ইতালির ১৯৮২ বিশ্বকাপজয়ী দলের রক্ষণভাগের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্লাউদিও জেন্তিলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন লিবিয়াতে।
নিচে উল্লেখযোগ্য কিছু ফুটবলারের তালিকা দেওয়া হলো, যারা এক দেশে জন্মগ্রহণ করেও অন্য দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন:
| খেলোয়াড়ের নাম | জন্মস্থান (দেশ) | যে দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয় | বিশ্বকাপের সাল |
| লুইস মন্টি | আর্জেন্টিনা | ইতালি | ১৯৩৪ |
| আত্তিলিও দেমারিয়া | আর্জেন্টিনা | ইতালি | ১৯৩৪ |
| এনরিকে গুয়াইতা | আর্জেন্টিনা | ইতালি | ১৯৩৪ |
| রাইমুন্ডো ওরসি | আর্জেন্টিনা | ইতালি | ১৯৩৪ |
| আনফিলোগিনো গুয়ারিসি | ব্রাজিল | ইতালি | ১৯৩৪ |
| ফেলিস বোরেল | ফ্রান্স | ইতালি | ১৯৩৪ |
| মারিও ভার্গলিয়েন | অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি (ক্রোয়েশিয়া) | ইতালি | ১৯৩৪ |
| ক্লাউদিও জেন্তিলে | লিবিয়া | ইতালি | ১৯৮২ |
| মার্সেল দেসাইলি | ঘানা | ফ্রান্স | ১৯৯৮ |
| প্যাট্রিক ভিয়েরা | সেনেগাল | ফ্রান্স | ১৯৯৮ |
| মিরোস্লাভ ক্লোসে | পোল্যান্ড | জার্মানি | ২০১৪ |
| লুকাস পোডলস্কি | পোল্যান্ড | জার্মানি | ২০১৪ |
ফিফার প্রকাশিত এই ‘২২’ জনের তালিকায় আগামীতে আরও বেশ কয়েকজন তারকার নাম যুক্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আসন্ন ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে ফুটবল পরাশক্তিদের হয়ে মাঠ কাঁপাতে প্রস্তুত হচ্ছেন এমন একঝাঁক প্রতিভাবান ফুটবলার, যাদের জন্ম অন্য দেশে।
এবারের আসরে আর্জেন্টিনার স্কোয়াডে দেখা যেতে পারে স্পেনে জন্ম নেওয়া নিকো পাজ ও মাতেও পেলেগ্রিনো এবং ইতালিতে জন্ম নেওয়া জিউলিয়ানো সিমিওনেকে। অপরদিকে, ফুটবল পরাশক্তি ফ্রান্সের জার্সিতে মাঠ মাতানোর অপেক্ষায় রয়েছেন ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া মাইকেল অলিসে এবং ইতালিতে জন্ম নেওয়া তারকা মার্কাস থুরাম। আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই বৈচিত্র্যময় ধারা আগামী বিশ্বকাপেও নতুন কোনো ইতিহাস তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।