খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ফুটবল ইতিহাসে খুব কম তরুণ খেলোয়াড় আছেন, যাদের প্রথম আলো দেখার মুহূর্তেই জনতা তাঁদের সঙ্গে তুলনা টেনেছে লিওনেল মেসির। লামিনে ইয়ামাল তাঁদের মধ্যেই একজন। মাঠে যখন তিনি নেমে পড়েন, তখন অনেকেই চোখ বন্ধ করেই মেসির মতো বাঁ–পায়ের ব্যালান্স, ঝলমলে ড্রিবল আর বাম দিক থেকে ভিতরে ঢোকে শট নেওয়ার ভঙ্গি দেখতে পান।
কিন্তু মেসির মতো খেলতে পারলেই কি মেসি হওয়া যায়?
ইয়ামাল নিশ্চয়ই মনে করেন—না।
সিবিএস নিউজের কাছে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বললেন একদম পারিবারিক স্নিগ্ধতার মতো একটি সত্য, “মেসিও জানেন যে আমি তাঁর মতো হতে চাই না। আমি আমার নিজের পথ খুঁজছি।”
এই কথায় লুকিয়ে আছে এক তরুণ প্রতিভার অদম্য আত্মবিশ্বাস। ১৮ বছর বয়সী একজন ফুটবলারের জন্য এমন পরিপক্বতা সচরাচর দেখা যায় না। ইয়ামাল জানেন—তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ লক্ষ্য করছে ফুটবল বিশ্ব। মেসির পরে কোনো কিশোর যখন বার্সায় একই পজিশনে উঠে আসে, তখন স্বাভাবিকভাবেই তুলনা জাগে।
কিন্তু ইয়ামাল পথটা আলাদা করতে চান। তিনি মেসিকে সম্মান করেন, তাঁকে সর্বকালের সেরা বলেও ঘোষণা করেন। তবু নিজের সম্পর্কে তাঁর ভাষা অতি স্পষ্ট—“আমি ১০ নম্বর জার্সি পরতে চাই না। আমার লক্ষ্য রেকর্ড নয়। লক্ষ্য মানুষকে আনন্দ দেওয়া।”
এখানে যে স্বচ্ছতা ও সৃজনশীলতার মূল্যবোধ আছে, তা তাঁর খেলায়ও প্রতিফলিত হয়।
এই মৌসুমেই ১৪ ম্যাচে ৭ গোল। জাতীয় দলে দুর্দান্ত উপস্থিতি। ইউরো জয়ের স্বাদ। এ সবই—মাত্র ১৮ বছর বয়সে।
তবুও তিনি বলেন—“ফুটবল আমার জীবনের প্রথম প্রেম।”
সোজা কথা, ফুটবল ছাড়া কিছুই ভাবেন না। প্রেমিকা, বিতর্ক, ব্যক্তিগত গসিপ—সব তাঁর কাছে গৌণ।
“বন্ধুদের সঙ্গে উপভোগ করতে পারব এমন গাড়ি চাই”—এই উত্তর তাঁর জীবনদর্শনকেও ফুটিয়ে তোলে। এই উত্তর মেসির প্রাইভেট জেটে চড়া জীবনধারা থেকে ভিন্ন।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়ামালের পরিপক্বতা তাঁর ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করবে। তিনি যদি তুলনার চাপে ভেঙে না পড়েন, তাহলে বার্সার ভবিষ্যৎ তিনি একাই বদলে দিতে পারেন।
মেসির ছায়া থেকে বেরিয়ে আসা সহজ নয়। কিন্তু ইয়ামাল চেষ্টা করছেন। আর তাঁর প্রথম লাইনই যেন তাঁর জীবনদর্শনের প্রতীক—“মেসি ইতিহাসের সেরা। কিন্তু আমি তাঁর মতো হতে চাই না।”