খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
দেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যকে উপজীব্য করে নতুন নকশা ও সিরিজের পাঁচ টাকা মূল্যমানের কারেন্সি নোট বাজারে প্রচলন করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৯ মে) থেকে নতুন এ নোট আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্যু শুরু হয়। অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার স্বাক্ষরিত এই নতুন নোট বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে বাজারে ছাড়া হচ্ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে নতুন পাঁচ টাকার নোট বিতরণ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য শাখা থেকেও এই নোট সরবরাহ করা হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন নকশার নোট প্রচলনের পাশাপাশি বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতোই বৈধ থাকবে এবং ব্যবহারযোগ্য থাকবে।
নতুন পাঁচ টাকার নোটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৭ মিলিমিটার × ৬০ মিলিমিটার। নোটের নকশায় দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক উপাদানকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নোটের সম্মুখভাগের বাম পাশে ঢাকার ঐতিহাসিক তারা মসজিদের চিত্র সংযোজন করা হয়েছে। এর মধ্যভাগে জাতীয় ফুল শাপলার প্রস্ফুটিত নকশা স্থান পেয়েছে, যা নোটের ভিজ্যুয়াল পরিচিতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
নোটের পেছনের অংশে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর প্রতিচ্ছবি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা সমসাময়িক চিত্রশৈলীর প্রতিনিধিত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই নকশা নতুন সিরিজের নোটে আধুনিক ও ঐতিহ্যবাহী উপাদানের সমন্বয় প্রদর্শন করে।
নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের অংশ হিসেবে নোটে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ সংবলিত জলছাপ ব্যবহার করা হয়েছে। জলছাপের নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ ‘৫’ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম সংযোজিত রয়েছে। এসব বৈশিষ্ট্য নোটের জালিয়াতি প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
নোটের বাম পাশে ২ মিলিমিটার প্রশস্ত নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে, যা আলোতে ধরলে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। এছাড়া নোটের সম্মুখভাগের নিচের অংশে ক্ষুদ্রাক্ষরে বারবার ‘BANGLADESH’ লেখা মাইক্রোপ্রিন্ট ব্যবহার করা হয়েছে, যা অতিরিক্ত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য হিসেবে কাজ করবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন সিরিজের এই নোট প্রচলনের পাশাপাশি সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষ ‘স্পেসিমেন’ বা নমুনা নোটও মুদ্রণ করা হয়েছে। এই নমুনা নোট বিনিময়যোগ্য নয় এবং এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সি মিউজিয়াম, মিরপুর থেকে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন নকশার নোট পর্যায়ক্রমে বাজারে প্রচলিত হয়ে পুরোনো নোটের পাশাপাশি ব্যবহৃত হবে। নতুন নোট চালুর মাধ্যমে দেশের কারেন্সি ব্যবস্থায় নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করা হয়েছে বলে তারা উল্লেখ করেছেন।