খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৬ মার্চ ২০২৫
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য গতি দেখা যাচ্ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ডিসেম্বরে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রায় ২৬৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর পরের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, যা ছিল প্রায় ২৫৩ কোটি ডলার।
চলতি মার্চে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ১৬৫ কোটি ৬১ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২০,২০৪ কোটি টাকার বেশি। প্রতিদিন গড়ে আসছে ১১ কোটি ডলারের বেশি। এ ধারা অব্যাহত থাকলে মার্চে রেমিট্যান্স ৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা হবে দেশের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অর্থপাচার কমেছে এবং হুন্ডি চক্রের কার্যক্রম হ্রাস পেয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংকগুলোতে খোলা বাজারের সমপরিমাণ ডলার দর পাওয়ায় প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠাচ্ছেন। আসন্ন ঈদুল ফিতরকেও রেমিট্যান্স বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রবাসীরা বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে এই রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। মার্চের প্রথম ১৫ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩৭ কোটি ১১ লাখ ডলার।বিশেষায়িত ব্যাংক (কৃষি ব্যাংক) মাধ্যমে ১৩ কোটি ডলার।বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ১১৫ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার ডলার।বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৩১ লাখ ডলার।
যে ব্যাংকে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি এর মধ্যেরাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) এবং রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক।বেসরকারি আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও পদ্মা ব্যাংক।বিদেশি হাবিব ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ও উরি ব্যাংক।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ১,৮৪৯ কোটি ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫৫ কোটি ডলার বেশি। বিশেষ করে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে টানা ৭ মাস ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
একক মাসের হিসাবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সর্বোচ্চ ২৬৪ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা পূর্বের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। ২০২০ সালের জুলাই মাসে সর্বোচ্চ ২৫৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা এবার ছাড়িয়ে গেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ইতিবাচক ধারা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করার পাশাপাশি অর্থনীতির স্থিতিশীলতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
খবরওয়ালা/এমবি