খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে চৈত্র ১৪৩২ | ৩১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিলেও দেশে জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্য অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো এপ্রিল মাসেও পেট্রল, অকটেন, ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানো হচ্ছে না। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ টাকা, কেরোসিন ১১২ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা এবং অকটেন ১২০ টাকা নির্ধারিত থাকছে। ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসেও একই দামে জ্বালানি তেল বিক্রি হয়েছে। ফলে টানা তিন মাস ধরে জ্বালানির খুচরা বাজারে কোনো পরিবর্তন আসছে না।
| জ্বালানির ধরন | প্রতি লিটার মূল্য (টাকা) |
|---|---|
| ডিজেল | ১০০ |
| কেরোসিন | ১১২ |
| পেট্রল | ১১৬ |
| অকটেন | ১২০ |
এর আগে জানুয়ারি মাসে প্রতি লিটারে ২ টাকা এবং ফেব্রুয়ারিতে আরও ২ টাকা করে দাম কমানো হয়েছিল, যা ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনেছিল। তবে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানির আমদানি ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় সরকারের ওপর ভর্তুকির চাপও দ্রুত বাড়ছে।
২০২৪ সালের মার্চ থেকে সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা চালু করে। এর আওতায় আগের মাসে আমদানিকৃত জ্বালানির গড় মূল্য বিবেচনা করে প্রতি মাসে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়। এ সংক্রান্ত একটি বিস্তারিত নির্দেশিকা ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়। নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে, ব্যক্তিগত যানবাহনে ব্যবহারের কারণে পেট্রল ও অকটেনকে তুলনামূলকভাবে ‘বিলাসপণ্য’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, ফলে এ দুটি জ্বালানির দাম সাধারণত ডিজেলের তুলনায় বেশি রাখা হয়।
অন্যদিকে, উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েল এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েলের মূল্য নির্ধারণ করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। আর ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রল ও অকটেনের দাম নির্ধারণ করা হয় নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজারদরে ডিজেলের আমদানি মূল্য প্রতি লিটার প্রায় ১৯৮ টাকা। সেই তুলনায় ১০০ টাকায় বিক্রি করায় সরকারকে বিপুল ভর্তুকি বহন করতে হচ্ছে। কেবল এক মাসেই প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার ভর্তুকি দিতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) সংসদে জানিয়েছেন, গত এক মাসে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দাম প্রায় ৯৮ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। একইভাবে অকটেনের ক্ষেত্রেও আমদানি ব্যয় প্রতি লিটার ১৫০ টাকার বেশি, অথচ খুচরা বাজারে তা ১২০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
বিশ্ববাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার বিপরীতে দেশের বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারের এ সিদ্ধান্ত স্বল্পমেয়াদে ভোক্তাদের স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে ভর্তুকির চাপ কতটা বহনযোগ্য হবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে।