খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 21শে পৌষ ১৪৩২ | ৪ই জানুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রোববার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর সোনারগাঁও মোড়ে মোবাইল ব্যবসায়ীদের আন্দোলনরত অবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনার সময় পুলিশের ওপর তাদের একাংশ আকস্মিকভাবে হামলা চালায়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। সংঘর্ষে পুলিশসহ বেশ কয়েকজন আহত হন এবং কিছুজনকে আটক করা হয়।
ডিএমপির রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. শওকত আলী জানান, সকাল থেকেই মোবাইল ব্যবসায়ীরা সোনারগাঁও ক্রসিং এলাকায় অবস্থান নেয়। বেলা ১১টার দিকে তারা পুরো রাস্তা বন্ধ করলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়, যা জনসাধারণের ভোগান্তি বৃদ্ধি করে। পুলিশ আইনের আওতায় তাদের সরানোর চেষ্টা করলে তারা প্রথমে সেখান থেকে সরে যায়।
কিছুক্ষণ পর ওই ব্যবসায়ীদের একটি অংশ পুনরায় রাস্তা অবরোধের চেষ্টা করলে পুলিশকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়। সংঘর্ষে পুলিশের কয়েকজন সদস্য আহত হন। এডিসি শওকত আলী জানান, আটক ব্যক্তিদের মোবাইল ব্যবসায়ী কি না এবং তাদের সঙ্গে কোনো দুষ্কৃতকারীর যোগ ছিল কি না তা যাচাই করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, আন্দোলনকারীরা পরে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে কেউ অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করেছে কি না, তা পুলিশ তদন্ত করছে।
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. ইবনে মিজান বলেন, “আন্দোলনকারীরা সোনারগাঁও মোড়সহ আশপাশের এলাকায় বসে পড়ে। বারবার অনুরোধেও তারা না সরলে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। পরে তারা ছড়িয়ে পড়ে এবং হঠাৎ পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।”
ডিসি ইবনে মিজান আরও বলেন, “এই হামলার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করা হয়। এতে আন্দোলনকারীরা এলোমেলোভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের মধ্যে একজন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারও রয়েছেন।”
আন্দোলনকারীদের দাবি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তাদের কোনো সরাসরি দাবি পুলিশের কাছে জানানো হয়নি। তারা যে কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো উচিত, সেখানে জানানো উচিত ছিল। তবে জনভোগান্তি সৃষ্টি করে সরকারের ওপর চাপ তৈরি করাই তাদের উদ্দেশ্য বলে মনে হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ হ্যান্ডসেট ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে ১ জানুয়ারি থেকে জাতীয় ডাটাবেজে সকল ফোনের আইএমইআই নথিভুক্ত করার ব্যবস্থা, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (NEIR) কার্যকর হয়েছে। এই নতুন ব্যবস্থার কারণে ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নেমেছেন।
নিচের টেবিলে এই ঘটনাসমূহের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| সময় ও তারিখ | ৪ জানুয়ারি, সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত |
| স্থান | সোনারগাঁও ক্রসিং, বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স |
| ঘটনায় পুলিশ ব্যবস্থা | জলকামান, সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস |
| আহত পুলিশ সদস্য | কয়েকজন, একজন এডিসি অন্তর্ভুক্ত |
| আটক ব্যক্তি | কয়েকজন, যাচাই প্রক্রিয়া চলছে |
| আন্দোলনের কারণ | NEIR কার্যকরী হওয়ার প্রতিবাদ |
বর্তমানে এলাকায় পুলিশের সতর্ক অবস্থান বজায় রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।