খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক:
প্রকাশ: 22শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ৬ই মার্চ ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশের অবৈধ নাগরিকদেরও ফেরত পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্র। তবে কবে ও কতজন ফেরত পাঠানো হবে সে সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করা হয়েছে, যেন হাতকড়া পরিয়ে বা অসম্মানজনক উপায়ে কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে ফেরত না পাঠানো হয়। ঢাকা ও ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক সূত্রগুলো গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানায়।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, গত মাসে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারকে অবৈধ হয়ে পড়া নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি অবহিত করেছে। এ নিয়ে একটি কূটনৈতিক পত্রও পাঠানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত তাদের দূতাবাসের মাধ্যমে অন্যান্য দেশের সরকারকে অবৈধ নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর বিষয়ে জানিয়ে থাকে। বাংলাদেশেও একই ধরনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে, দেশের নাগরিকদের অসম্মানজনক উপায়ে ফেরত পাঠানো না হয়, সেজন্য ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ হয়ে পড়া নাগরিকদের ফেরত আনার বিষয়ে বুধবার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর জন্য যে প্রক্রিয়া রয়েছে, সেটি অনুসরণ করা হবে। নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানো হবে। সেইসাথে, অন্যান্য দেশের নাগরিকদের মতো হাতকড়া পরিয়ে তাদের ফেরত পাঠানো না হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে।
অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা ও অবস্থান
ঢাকা ও যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসীর সংখ্যা সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, ধারণা করা হচ্ছে যে, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি রাজ্য—নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি এবং কানেটিকাটে অবৈধ বাংলাদেশির সংখ্যা বেশি হতে পারে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সরকারি দপ্তর—অফিস অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়টি তদারক করে থাকে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত মাসে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তারা অবৈধ হয়ে পড়া বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং ঢাকার সহযোগিতা চেয়েছে। সরকারও ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।
বাংলাদেশ সম্মানজনকভাবে তার নাগরিকদের ফেরত নিতে চায় উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ চায় না, অন্যান্য দেশের মতো হাতকড়া পরিয়ে বাংলাদেশিরা দেশে ফিরে আসুক। যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তেমন কিছু করবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্রের আভাস
কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে তাঁর সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়ন করছেন, তাতে আগাম কিছু অনুমান করা কঠিন। তবে কলাম্বিয়া সহ একাধিক দেশের অবৈধ নাগরিকদের যেভাবে হাতকড়া পরিয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তেমন কিছু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ঘটবে না বলে আশা করা হচ্ছে। তাছাড়া, বাংলাদেশের অবৈধ নাগরিকের সংখ্যা খুব বেশি নয়, তাই ভাড়া করা উড়োজাহাজে তাদের ফেরত পাঠানোও সম্ভব হতে পারে না। অতীতে, অপরাধের সাথে যুক্ত না থাকার এবং বৈরী আচরণ না করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের সম্মানজনকভাবে ফেরত পাঠানোর কথা বলা হয়েছে।
তবে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনামলে এসব বিষয়ে কিছু পূর্বাভাস দেওয়া কঠিন, কারণ কলাম্বিয়া প্রথমে তাদের নাগরিকদের সামরিক উড়োজাহাজে ফেরত নিতে না চাওয়ার পর দেশটির ওপর ২৫% শুল্ক বৃদ্ধি করার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। পরবর্তীতে কলাম্বিয়া তাদের সিদ্ধান্ত থেকে পিছু হটে।
খবরওয়ালা/জেআর