খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ইতোমধ্যে চারটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও ওয়ানডে বা একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজই প্রথম অভিষেক হলো তরুণ পাকিস্তানি ক্রিকেটার আরাফাত মিনহাসের। আর ওয়ানডে ক্রিকেটের এই অভিষেক ম্যাচেই শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বল হাতে একাই ৫ উইকেট শিকার করে বিশ্ব ক্রিকেটে নিজের দুর্দান্ত ও স্মরণীয় আগমন বার্তা জানান দিলেন ২১ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনার। রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে আরাফাত মিনহাসের বাঁহাতি স্পিনের বিধ্বংসী তোপে পড়ে নির্ধারিত ৫০ ওভার পূর্ণ হওয়ার আগেই মাত্র ২০০ রানে অলআউট হয়ে গেছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। ফলে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে জয়লাভ করার জন্য স্বাগতিক পাকিস্তানের সামনে এখন লক্ষ্যমাত্রা দাঁড়িয়েছে ২০১ রান।
রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তানের অধিনায়ক। পাকিস্তানের আমন্ত্রণে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুটা মোটামুটি ভালোই করেছিল অস্ট্রেলিয়া দল। দলের স্কোরবোর্ডে ১ উইকেট হারিয়ে ৬২ রান সংগ্রহ করে তারা একটি নিয়ন্ত্রিত ও মজবুত অবস্থানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনে একাই ধস নামান পাকিস্তানি তরুণ অভিষিক্ত স্পিনার আরাফাত মিনহাস। তাঁর নিয়ন্ত্রিত ও বৈচিত্র্যময় ঘূর্ণি বলের সামনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৬ রান যোগ করতেই মূল্যবান ৩টি উইকেট হারিয়ে তীব্র ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে সফরকারী দল। মূলত আরাফাত মিনহাস নিজের টানা দুই ওভারের ব্যবধানে এই ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট শিকার করে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন।
শুরুর দিকের ব্যাটিং বিপর্যয় কাটিয়ে অস্ট্রেলিয়া দলকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন মিডল অর্ডার ব্যাটার ম্যাথু শর্ট। তিনি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ব্যাটিং প্রদর্শন করে নিজের ব্যক্তিগত হাফ সেঞ্চুরি বা অর্ধশতক পূরণ করেন এবং দলকে একটি সম্মানজনক স্কোরের দিকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। তবে ফিফটি করার পর তাঁকেও নিজের সাজঘরে ফিরতে হয় এবং এই উইকেটটিও শিকার করেন ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষিক্ত হওয়া বোলার আরাফাত মিনহাস। আউট হওয়ার আগে ম্যাথু শর্ট দলের পক্ষে ৭৬ বলের মুখোমুখি হয়ে ৫৫ রানের একটি দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন।
ম্যাথু শর্ট আউট হওয়ার পর দলের হাল ধরতে চেয়েছিলেন আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটার ম্যাট রেনশ। তিনি বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ক্রিজে থিতু হয়ে রান তোলার গতি সচল রাখছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের দুর্দান্ত লেগস্পিনার আবরার আহমেদের অনেকটুকু বাঁক নেওয়া একটি বিস্ময়কর ও টার্নিং ডেলিভারিতে পুরোপুরি পরাস্ত হয়ে বোল্ড হয়ে যান ম্যাট রেনশ। সাজঘরে ফেরার আগে তিনি দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ৬৩টি বল খেলে ৬২ রানের একটি লড়াকু ও চমৎকার ইনিংস উপহার দেন। তাঁর এই আউটের ফলে অস্ট্রেলিয়ার বড় সংগ্রহ গড়ার স্বপ্ন অনেকটাই ম্লান হয়ে যায়।
ম্যাট রেনশ ও ম্যাথু শর্টের বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়ার লেজের দিকের ব্যাটাররা পাকিস্তানি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি। তবে শেষের দিকে ম্যাথিউ কুনম্যান একা কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং দলের পক্ষে লড়াই চালিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ২০০ রানের কোটা পর্যন্ত নিয়ে যেতে সক্ষম হন। শেষ পর্যন্ত ৪৪ দশমিক ১ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ঠিক ২০০ রান তুলতে সমর্থ হয় অস্ট্রেলিয়া দল। দলের পক্ষে শেষ ব্যাটার হিসেবে ম্যাথিউ কুনম্যান ব্যক্তিগত ২৪ রান সংগ্রহ করেন।
পাকিস্তানের বোলিং পারফরম্যান্স ও উইকেট প্রাপ্তি:
আরাফাত মিনহাস: নিজের ওয়ানডে অভিষেক ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে এই বাঁহাতি স্পিনার অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং প্রদর্শন করেন। তিনি তাঁর নির্ধারিত বোলিং কোটায় মাত্র ৩২ রান খরচ করে একাই শিকার করেন ৫টি মূল্যবান উইকেট।
আবরার আহমেদ: লেগস্পিনার আবরার আহমেদও বল হাতে দারুণ অবদান রেখেছেন। তিনি প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনে আঘাত হেনে ২টি উইকেট নিজের ঝুলিতে পুরেন।
অন্যান্য বোলার: পাকিস্তানের বাকি বোলারদের নিয়ন্ত্রিত ও আঁটসাঁট বোলিংয়ের কারণে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা হাতখুলে খেলতে পারেননি এবং ৪৪ দশমিক ১ ওভারেই ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে।
পাকিস্তানের মাটিতে অনুষ্ঠিত এই সিরিজে রাওয়ালপিন্ডির পিচ বরাবরই ব্যাটারদের জন্য সহায়ক হলেও আজ পাকিস্তানি স্পিনারদের চমৎকার নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও নিখুঁত লাইন-লেন্থের কারণে সুবিধা করতে পারেনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া। অভিষেকেই আরাফাত মিনহাসের এমন স্মরণীয় বোলিং পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে পাকিস্তান দল এখন সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ২০১ রানের এই সহজ লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে পাকিস্তানের ব্যাটারদের নিজেদের কন্ডিশনে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না বলে ক্রিকেট বিশ্লেষকরা মনে করছেন।