খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 22শে চৈত্র ১৪৩২ | ৫ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
রোনান ও ডেকলান সুলিভান, যমজ দুই ভাই, সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছিলেন সাফ অ-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে। তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া থেকে আগমন করেছিলেন। যদিও ভাই রোনান প্রতিটি ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ সময় পেয়েছেন এবং দাপটের সঙ্গে খেলেছেন, তার বিপরীতে ডেকলান পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র সামান্য সময় মাঠে থাকতে পেরেছেন।
ডেকলান প্রথম দুই গ্রুপ ম্যাচে নামতেই পারেননি। সেমিফাইনালে নেমেছিলেন কেবল ৮৭তম মিনিটে, আর ফাইনালে মাঠে নামার সময় ছিল ৬৩তম মিনিট। মাঠে কম সময় থাকার কারণে কিছুটা অতৃপ্তি থাকা স্বাভাবিক, তবে ডেকলান পেশাদার মনোভাব বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, “ফুটবলে এমন ঘটনা ঘটে। দলকে জিততে সাহায্য করাই মূল লক্ষ্য। টিম স্পিরিটই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যখন দলের প্রয়োজন হয়, তখন যেখানে প্রয়োজন সেখানে নামার জন্য সবসময় প্রস্তুত। সামগ্রিকভাবে আমি সন্তুষ্ট।”
সেমিফাইনালে মাত্র সাত মিনিট মাঠে থাকা অবস্থায় ডেকলান নেপালের বিপক্ষে ভাই রোনানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পাস দিয়েছেন। ফাইনালের শেষ ভাগে ডান প্রান্ত থেকে রোনানের উদ্দেশ্যে লম্বা বল পাঠানোও তার কার্যকরী মুহূর্তের মধ্যে ছিল। এই দুই ভাইয়ের বোঝাপড়া ম্যাচের মধ্যেই ফুটে উঠেছে। ডেকলান বলেন, “আমরা একসাথে বেড়ে উঠেছি। আমার ডেলিভারি এবং তার রিসিভিং পজিশন সম্পর্কে আমরা ভালোভাবে জানি।”
ডেকলান মূলত রাইট ব্যাক। প্রতিরক্ষায় তার প্রধান দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও তিনি আক্রমণে সহায়তা করেছেন একাধিকবার। তার ভাই রোনান চার ম্যাচে দুটি গোল করেছেন এবং আরেকটি গোলের প্রচেষ্টা করেছেন। ডেকলান বলেন, “ডিফেন্স আমার মূল দায়িত্ব, তবে আক্রমণেও অবদান রাখতে চাই। এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় এবং উন্নতি করা আমার লক্ষ্য।”
প্রথম দুই ম্যাচে মাঠে না থাকার কারণে বাংলাদেশি সমর্থকরা কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে ঢাকায় এসে তিনি দেশের ফুটবল সমর্থকদের উষ্ণ অভ্যর্থনা দেখে অভিভূত হয়েছেন। তিনি বলেন, “সবার এমন সমর্থন সত্যিই আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকরা সত্যিই অসাধারণ।”
নিচের টেবিলে ডেকলান সুলিভানের টুর্নামেন্ট সংক্রান্ত মূল তথ্য সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| খেলোয়াড় | ডেকলান সুলিভান |
| টিম | যুক্তরাষ্ট্র / সাফ অ-২০ |
| অবস্থান | রাইট ব্যাক |
| প্রথম দুই ম্যাচে সময় | মাঠে নামেননি |
| সেমিফাইনালে সময় | ৮৭তম মিনিট থেকে ৭ মিনিট খেলা |
| ফাইনালে সময় | ৬৩তম মিনিট থেকে খেলা |
| ভাই | রোনান সুলিভান |
| আক্রমণ সহযোগিতা | গুরুত্বপূর্ণ পাস ও লম্বা বল |
| ডিফেন্স ও আক্রমণের লক্ষ্য | সমন্বয় ও উন্নতি |
| বাংলাদেশ সমর্থক প্রতিক্রিয়া | উষ্ণ সমর্থন, অভিভূত ডেকলান |
সংক্ষেপে, মাঠে কম সময় পেলেও ডেকলান সুলিভান তার পেশাদার মনোভাব, দলের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং সমর্থকদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল মনোভাব দেখিয়েছেন। তার এই আচরণ ক্রীড়াপ্রেমীদের কাছে এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হিসেবে থেকে যাবে।