খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫
চলমান অ্যাশেজ সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই অ্যাডিলেড টেস্টের আগে একাদশে পরিবর্তন এনেছে ইংল্যান্ড। সিরিজের প্রথম দুই টেস্টে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর পেসার গাস অ্যাটকিনসনকে বাইরে রেখে দলে নেওয়া হয়েছে ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার তরুণ পেসার জশ টাংকে। অ্যাডিলেডে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্ট সামনে রেখে এটিই ইংল্যান্ড একাদশের একমাত্র পরিবর্তন।
এবারের অ্যাশেজের প্রথম দুই টেস্টে অ্যাটকিনসনের পারফরম্যান্স ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। চার ইনিংসে তিনি ৫৪ ওভার বোলিং করে ২৩৬ রান দিলেও উইকেট নিতে পেরেছেন মাত্র তিনটি। গড় ও প্রভাব—দুই দিক থেকেই যা ছিল ইংল্যান্ড বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল। পার্থ ও ব্রিসবেনে পরপর দুটি টেস্ট হেরে ইতোমধ্যে ২–০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়া ইংল্যান্ডের জন্য তাই অ্যাডিলেড টেস্ট হয়ে উঠেছে ‘ডু অর ডাই’ লড়াই। এই বাস্তবতায় অ্যাটকিনসনের জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল আগেই, আর শেষ পর্যন্ত ইসিবি সেই প্রশ্নেরই স্পষ্ট উত্তর দিল।
অ্যাডিলেডের উইকেটকে এবারের সিরিজের সবচেয়ে স্পিনবান্ধব হিসেবে ধরা হচ্ছে। এমন কন্ডিশনে ইংল্যান্ডের অফ স্পিনার শোয়েব বশিরকে একাদশে না রাখার সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হতে পারে। পার্থ ও ব্রিসবেনে উইকেট ও পরিস্থিতির কারণে বশিরকে খেলানো হয়নি। তবে একই কন্ডিশনে অস্ট্রেলিয়াও অফ স্পিনার নাথান লায়নকে নিয়ে সতর্ক ছিল। পার্থে মাত্র দুই ওভার বোলিং করা লায়ন ব্রিসবেনে একেবারেই খেলেননি। কিন্তু অ্যাডিলেডে তাঁর খেলা প্রায় নিশ্চিত, কারণ এই মাঠে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ ৬৩ উইকেটই লায়নের দখলে।
তাহলে প্রশ্ন উঠছে—স্পিন সহায়ক উইকেটে অস্ট্রেলিয়া যখন লায়নকে খেলাতে পারে, ইংল্যান্ড কেন বশিরকে বাইরে রাখছে? এর উত্তরে উঠে আসছে ইংল্যান্ড টিম ম্যানেজমেন্টের কৌশল। ৬ ফুট ৪ ইঞ্চি উচ্চতার জশ টাংয়ের ‘হাই রিলিজ পয়েন্ট’ এবং অতিরিক্ত বাউন্স আদায়ের ক্ষমতা অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে কার্যকর হতে পারে—এ বিশ্বাস ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস ও কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের। স্পিনের পাশাপাশি গতির বৈচিত্র্য এনে ম্যাচে চাপ তৈরির লক্ষ্যেই টাংকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইএসপিএনক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে টেস্টে অভিষিক্ত হওয়ার পর থেকেই টাং তাঁর উইকেট নেওয়ার সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। এ পর্যন্ত ছয়টি টেস্টে তিনি ৩০ গড়ে ৩১ উইকেট শিকার করেছেন। গত জুলাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে পাঁচ টেস্টের সিরিজে তিন ম্যাচ খেলে ১৯ উইকেট নিয়ে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি ছিলেন টাং। সেই সিরিজের তৃতীয় টেস্টে আঙুল ভেঙে মাঠ ছাড়ার পর শোয়েব বশিরের আর খেলা হয়নি।
বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে অ্যাডিলেডে শুরু হতে যাওয়া তৃতীয় টেস্টে তাই নতুন কৌশল আর নতুন মুখের ওপরই ভরসা রাখছে ইংল্যান্ড। সিরিজ বাঁচাতে হলে এই সিদ্ধান্ত যে কতটা কার্যকর, সেটার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়েই।
| খেলোয়াড় | ম্যাচ | ওভার/গড় | উইকেট |
|---|---|---|---|
| গাস অ্যাটকিনসন | ২ টেস্ট | ৫৪ ওভার, ২৩৬ রান | ৩ |
| জশ টাং | ৬ টেস্ট | গড় ৩০ | ৩১ |
| নাথান লায়ন (অ্যাডিলেড) | টেস্ট | — | ৬৩ উইকেট |