খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে পৌষ ১৪৩২ | ২৩ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইংল্যান্ড ক্রিকেটের ইতিহাসে ২০২২ সালটি ছিল এক আমূল পরিবর্তনের বছর। জো রুটের উত্তরসূরি হিসেবে টেস্ট দলের অধিনায়কত্ব পান বেন স্টোকস এবং প্রধান কোচের দায়িত্ব নেন নিউজিল্যান্ডের কিংবদন্তি ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। এই দুই হার্ডহিটার মিলে টেস্ট ক্রিকেটে এক অভূতপূর্ব আক্রমণাত্মক ধারার সূচনা করেন, যা বিশ্বজুড়ে ‘বাজবল’ (Bazball) নামে পরিচিতি পায়। শুরুতে এই কৌশলে ইংল্যান্ড অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠলেও, বর্তমান অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দলটির চরম বিপর্যয় এই দর্শনের কার্যকারিতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
অ্যাশেজে লজ্জাজনক হার ও পরিসংখ্যানের ব্যবচ্ছেদ
চলতি অ্যাশেজে ইংল্যান্ডের পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই। সিরিজের প্রথম তিন টেস্টের সবকটিতেই হেরে মাত্র ১১ দিনের মাথায় অ্যাশেজ পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়েছে তারা। যেখানে ৫টি টেস্ট মিলিয়ে ২৫ দিন খেলা হওয়ার কথা ছিল, সেখানে মাত্র ১১ দিনেই সিরিজের নিষ্পত্তি ইংলিশ ক্রিকেটের দৈন্যদশাকেই ফুটিয়ে তোলে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, স্টোকস-ম্যাককালাম জুটির অধীনে প্রথম ১১ টেস্টের ১০টিতে জয় পেলেও, পরবর্তী ৩৩ টেস্টে ইংল্যান্ডের জয় মাত্র ১৫টি, যেখানে হার ১৬টি।
নিচে ম্যাককালামের কোচিং মেয়াদে ইংল্যান্ডের টেস্ট পারফরম্যান্সের একটি তুলনামূলক চিত্র দেওয়া হলো:
| বিষয় | পরিসংখ্যান ও তথ্য |
|---|---|
| মোট ম্যাচ পরিচালনা | ৪৪টি টেস্ট |
| মোট জয় | ২৫টি |
| মোট হার | ১৭টি |
| প্রথম ১১ টেস্টের রেকর্ড | ১০ জয়, ১ হার |
| পরবর্তী ৩৩ টেস্টের রেকর্ড | ১৫ জয়, ১৬ হার |
| ৫ ম্যাচের সিরিজ জয় | ০ (চারটি সিরিজের একটিতেও জয় নেই) |
| বর্তমান অ্যাশেজ ফলাফল | ০-৩ ব্যবধানে সিরিজ হার (২ ম্যাচ বাকি থাকতেই) |
জিওফ্রে বয়কটের কড়া সমালোচনা ও পরামর্শ
ইংল্যান্ডের কিংবদন্তি ওপেনার জিওফ্রে বয়কট দলের এমন ছন্নছাড়া অবস্থায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এ লেখা এক কলামে তিনি সরাসরি ব্রেন্ডন ম্যাককালামের বিদায় দাবি করেছেন। বয়কটের মতে, ‘বাজবল’ দর্শনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে এবং অতিরিক্ত অহংকার ইংলিশ ক্রিকেটারদের বিচারবুদ্ধি লোপ পাইয়ে দিচ্ছে।
বয়কট বলেন, “স্টোকস এবং ম্যাককালাম এমন মানুষ, যাঁরা জানেন না তাঁরা কোথায় গর্ত খুঁড়ছেন। যখন কোনো কৌশল কাজ করে না, তখন গর্ত খোঁড়া থামানোই বুদ্ধিমানের কাজ।” তিনি ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি-কে তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন:
১. আরও বাস্তববাদী হয়ে ক্রিকেট খেলা।
২. হঠকারী ‘বাজবল’ দর্শন ত্যাগ করা।
৩. দ্রুত নতুন একজন কোচ নিয়োগ দেওয়া।
অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও ম্যাককালামের অবস্থান
ম্যাককালামের সঙ্গে ইসিবির চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত থাকলেও, বর্তমান ব্যর্থতা তাঁর পদটিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। অ্যাডিলেডে ৮২ রানের হারের পর ৪৪ বছর বয়সী এই কোচ স্বীকার করেছেন যে, তাঁর ভবিষ্যৎ এখন অন্যদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে দায়িত্ব ছাড়ার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। তিনি জানিয়েছেন, এই কাজের রোমাঞ্চ তিনি উপভোগ করেন এবং অস্ট্রেলিয়ায় করা ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী সামারে ভালো করার আশা রাখেন।
অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রিকি পন্টিংও ইংল্যান্ডের এমন আত্মসমর্পণে অবাক হয়েছেন। তিনি মনে করেন, বড় বড় কথা বললেও অ্যাশেজ জয়ের জন্য যে ধরনের লড়াকু ক্রিকেট প্রয়োজন, ইংল্যান্ড তা প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছে। মেলবোর্নে বক্সিং ডে টেস্টে ঘুরে দাঁড়ানোই এখন ইংলিশদের জন্য পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ।