খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি বাঁহাতি ব্যাটার ডেভিড ওয়ার্নার ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) তথা ভারতের কোটি টাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টে আর ফিরতে চান না বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর বর্তমানে তিনি শুধুমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) সবশেষ দুই মৌসুমে অংশ নেওয়া এবং করাচি কিংসের অধিনায়কত্ব করার পর আইপিএল বিমুখ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে।
পিএসএলে করাচি কিংসের হয়ে লিগ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পর ডেভিড ওয়ার্নার তাঁর অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডলে একটি দীর্ঘ পোস্ট শেয়ার করেন। সেখানে তিনি পাকিস্তানের আতিথেয়তা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি লেখেন, “আমাদের যথাযথ নিরাপত্তা দেওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিশকে ধন্যবাদ। ট্রাফিক জ্যামের মধ্যেও ধৈর্য ধরে দর্শকেরা ম্যাচ দেখতে এসেছেন। সেজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আশা করি, শিগগিরই আপনাদের সঙ্গে দেখা হবে।”
ওয়ার্নারের এই আবেগঘন বার্তার নিচে এক ভক্ত তাঁকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করেন যে, আইপিএলে ফিরে আসাই তাঁর জন্য সেরা সিদ্ধান্ত হবে। ওই ভক্তের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ওয়ার্নার অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত এবং কৌশলগত উত্তর প্রদান করেন। তিনি সরাসরি লেখেন, “এখন সেটার কোনো প্রয়োজন নেই।” ওয়ার্নারের এই মন্তব্যটি ক্রিকেট বিশ্বে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন যে, দীর্ঘ ১৫ বছরের আইপিএল অধ্যায়ের ইতি টানার মানসিক প্রস্তুতি তিনি ইতিমধ্যেই নিয়ে ফেলেছেন।
পিএসএলের ২০২৬ সালের আসরে ডেভিড ওয়ার্নার করাচি কিংসের নেতৃত্বের দায়িত্বে ছিলেন। তবে তাঁর দল আসরে প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। করাচি কিংস লিগ পর্বে মোট ১০টি ম্যাচ খেলে পাঁচটিতে জয় এবং পাঁচটিতে পরাজয় বরণ করে। ১০ পয়েন্ট এবং -০.৮৬৯ নেট রানরেট নিয়ে আট দলের এই টুর্নামেন্টে পয়েন্ট টেবিলের ছয় নম্বরে থেকে বিদায় নেয় তাঁর দল।
দলের ব্যর্থতা সত্ত্বেও ওয়ার্নার খেলোয়াড়দের মানসিকতায় ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন। তিনি তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেন, “ফলটা আমাদের প্রত্যাশামতো হয়নি। কিন্তু দলের ভেতর যে উদ্দীপনা, দৃঢ়তা এবং মানসিকতা দেখেছি, তা অসাধারণ। দারুণ এক পরিবেশ ছিল। ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা। আতিথেয়তার জন্য পিএসএলকে অসংখ্য ধন্যবাদ।”
২০০৯ সালে আইপিএলে অভিষেক হওয়া ডেভিড ওয়ার্নার টুর্নামেন্ট ইতিহাসের অন্যতম সফল বিদেশি ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচিত হন। ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছরের ক্যারিয়ারে তিনি বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেছেন, যার মধ্যে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ এবং দিল্লি ক্যাপিটালস উল্লেখযোগ্য।
ওয়ার্নারের আইপিএল ক্যারিয়ারের এক নজরে পরিসংখ্যান:
মোট ম্যাচ: ১৮৪টি
মোট রান: ৬৫৬৫
সেঞ্চুরি: ৪টি
হাফ সেঞ্চুরি: ৬২টি (যা আইপিএল ইতিহাসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ)
গড়: ৪০.৫২
স্ট্রাইকরেট: ১৩৯.৭৭
২০১৬ সালে ওয়ার্নারের ক্যারিয়ারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সময় অতিবাহিত হয়। তাঁর নেতৃত্বেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। সেই মৌসুমে ওয়ার্নার ব্যক্তিগতভাবেও অসাধারণ ব্যাটিং পারফরম্যান্স করেছিলেন।
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের পর ওয়ার্নার নিজেকে বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোর জন্য উন্মুক্ত করে দেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আইপিএলে তাঁর ফর্ম এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তৃপক্ষের সাথে সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে নানা গুঞ্জন ছিল। বিশেষ করে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ থেকে তাঁর বিদায় এবং পরবর্তীকালে দিল্লি ক্যাপিটালসের হয়ে আশানুরূপ পারফরম্যান্স করতে না পারাটা হয়তো তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের পিএসএল বা অস্ট্রেলিয়ার বিগ ব্যাশ লিগসহ অন্যান্য লিগগুলোতে তিনি আগের চেয়ে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন বলে তাঁর সাম্প্রতিক পোস্টগুলো থেকে ধারণা করা যায়। আইপিএলের দীর্ঘ সূচি এবং ভ্রমণের ক্লান্তি এড়িয়ে তুলনামূলক ছোট দৈর্ঘ্যের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতে মনোনিবেশ করতেই হয়তো তিনি আইপিএলে আর ফিরতে চাইছেন না।
উপসংহার: ডেভিড ওয়ার্নারের আইপিএলে না ফেরার সিদ্ধান্তটি যদি চূড়ান্ত হয়, তবে তা টুর্নামেন্টের জন্য একটি যুগের অবসান হবে। ভারতের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে তিনি শুধুমাত্র একজন মারকুটে ব্যাটার হিসেবেই নন, বরং একজন বিনোদনদায়ী হিসেবেও জনপ্রিয় ছিলেন। তবে বর্তমানে করাচি কিংস এবং পিএসএলের আতিথেয়তায় মুগ্ধ ওয়ার্নার নিজের ক্যারিয়ারের গোধূলি বেলায় নতুন দিগন্তের সন্ধানে রয়েছেন বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।