খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬
বিশ্ববিখ্যাত পপ তারকা বিলি আইলিশ আবারও তাঁর বিশাল সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে মার্কিন প্রশাসনের একটি বিতর্কিত পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিসে সম্প্রতি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) বা ‘আইস’-এর হাতে এক নারী নিহতের ঘটনায় দেশজুড়ে যে তীব্র প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে, তাতে সংহতি প্রকাশ করেছেন এই গায়িকা। তিনি সরাসরি আইস-কে একটি ‘রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে অভিহিত করে সংস্থাটি বিলুপ্ত করার ডাক দিয়েছেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: মিনিয়াপলিসে রেনি গুড হত্যাকাণ্ড
ঘটনাটি ঘটে গত ৭ জানুয়ারি বুধবার, মিনিয়াপলিসে একটি অভিবাসন বিরোধী অভিযান চলাকালীন। ওই অভিযানে আইস কর্মকর্তাদের গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনি নিকোল গুড নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকেই মার্কিন সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে তোলপাড় শুরু হয়। হোয়াইট হাউস এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (DHS) দাবি করেছিল যে, রেনি গুড তাঁর গাড়ি দিয়ে কর্মকর্তাদের চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন এবং আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রেনি আসলে কর্মকর্তাদের থেকে বিপরীত দিকে গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এমনকি খোদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সামনে ভিডিওটি দেখে দৃশ্যটিকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেন।
ঘটনার প্রধান ঘটনাক্রম এবং বিলি আইলিশের প্রতিবাদের সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরা হলো:
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত তথ্য ও বিবরণ |
|---|---|
| নিহত ব্যক্তি | রেনি নিকোল গুড (৩৭ বছর)। |
| ঘটনার স্থান ও সময় | মিনিয়াপলিস, মিনেসোটা; ৭ জানুয়ারি ২০২৬। |
| আইলিশের মন্তব্য | আইস একটি ‘ফেডারেল অর্থায়নে পরিচালিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’। |
| দাবিসমূহ | আইস বিলুপ্ত করা, ফাণ্ড বন্ধ করা এবং দায়ী কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার। |
| সরকারি ভাষ্য | আত্মরক্ষার দাবিতে গুলিবর্ষণ; যা ভিডিও ফুটেজের সাথে সাংঘর্ষিক। |
| আইলিশের পূর্ব অবস্থান | ২০২৪ নির্বাচনে ট্রাম্পের বিরোধিতা ও কমলা হ্যারিসকে সমর্থন। |
| বিগত বছরের পরিসংখ্যান | গত বছর আইস হেফাজতে ৩২ জন ব্যক্তির মৃত্যু। |
বিলি আইলিশের সামাজিক মাধ্যমের প্রতিবাদ
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ৯ বার গ্র্যামি জয়ী এই তারকা তাঁর ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে একের পর এক পোস্ট শেয়ার করেন। প্রথম পোস্টে তিনি একটি গ্রাফিক শেয়ার করেন যেখানে আইস-কে ‘পরিবার ধ্বংসকারী’ এবং ‘সন্ত্রাসী গোষ্ঠী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। দ্বিতীয় পোস্টে তিনি গত এক বছরে আইস হেফাজতে নিহত ৩২ জন ব্যক্তির তালিকা তুলে ধরে সংস্থাটিকে স্থায়ীভাবে বিলুপ্ত করার বা ‘অ্যাবলিশ আইস’ আন্দোলনের ডাক দেন। তৃতীয় পোস্টে তিনি মার্কিন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান যেন তাঁরা নিজ নিজ এলাকার কংগ্রেস সদস্যদের ফোন করে আইস-এর অর্থায়ন বন্ধের দাবি জানান।
রাজনৈতিক মেরুকরণ ও ভবিষ্যৎ প্রভাব
ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই অভিবাসন বিরোধী অভিযান বা ‘আইস রেইড’ নিয়ে আমেরিকার সমাজব্যবস্থা দ্বিধাবিভক্ত। বিলি আইলিশ এর আগেও তাঁর নিজ শহর লস অ্যাঞ্জেলেসে আইস-এর অভিযানের তীব্র নিন্দা জানিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি ট্রাম্পের প্রতিদ্বন্দ্বী কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে মিনিয়াপলিসের এই ভিডিও ফুটেজ এবং বিলি আইলিশের মতো বৈশ্বিক আইকনদের প্রতিবাদ ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজরে এসেছে।