খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ আগে চারদিকে তীব্র গ্যাসের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুনের লেলিহান শিখা পাশের ঘরবাড়ি ও যানবাহনে আঘাত হানে। আশপাশের বাসিন্দারা প্রাণভয়ে ঘর ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। ঘনবসতিপূর্ণ এই এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস, ফলে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

চিকিৎসকরা জানান, গুরুতর দগ্ধ তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীতে পাঠানো হয়েছে। আরও সাতজনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকি আহতরা কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে, তাঁদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

অগ্নিনির্বাপণ ও সিভিল প্রতিরক্ষা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, কেন্দ্রটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছিল। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্র ছাড়াই স্থাপনাটি নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাসের পাইপ বা সংরক্ষণ ট্যাংক থেকে লিকেজের কারণে বিস্ফোরণ ঘটে। প্রায় ১৪ হাজার লিটার ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ট্যাংকটি সম্পূর্ণ খালি হয়ে যাওয়ার পর রাত ১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে ১০টি অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের সহায়তায় কাজ করে।
মানবিক ক্ষতির পাশাপাশি ব্যাপক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। অন্তত ১০টি বসতবাড়ি আংশিক বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা ২০ থেকে ২৫টি পর্যটকবাহী জিপ পুড়ে বা বিকৃত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, যদিও চূড়ান্ত হিসাব এখনও নিরূপণ করা হয়নি।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| বিস্ফোরণের সময় | রাত ৯টা |
| মোট আহত | ১৬ জন |
| আশঙ্কাজনক | ১০ জন |
| আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে | রাত ১টা |
| ট্যাংকের ধারণক্ষমতা | প্রায় ১৪,০০০ লিটার |
| ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি | অন্তত ১০টি |
| ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন | ২০–২৫টি জিপ |
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। কেন্দ্রের মালিকের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূত স্থাপনা নির্মাণ ও নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বিশেষজ্ঞরা আবাসিক এলাকায় দাহ্য পদার্থ সংরক্ষণে কঠোর তদারকির আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেছেন, শিথিল নজরদারি ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।