খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬
দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের উদ্যোগ হিসেবে দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে আগামীকাল সোমবার থেকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হবে। এই ছুটি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষাপঞ্জিতে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত চলবে।
আজ রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনাপত্রে এই ছুটির তথ্য জানানো হয়েছে। নির্দেশনাপত্রে বলা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের মাধ্যমে সকল বিশ্ববিদ্যালয়কে এই সিদ্ধান্ত অবহিত করতে হবে।
নির্দেশনাপত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য সব পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ও সাশ্রয়ী আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আরও জানায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে ইতিমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী গাড়ির ব্যবহার সীমিত করা, অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখা, কম্পিউটার ও ল্যাপটপের শক্তি সাশ্রয়ী ব্যবহার নিশ্চিত করা, এবং অফিসার ও কর্মচারীদের দফতরে আসা–যাওয়ার সময় পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থা গ্রহণের মতো ১১ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ছুটির সময়সূচি নিম্নরূপ:
| বিশ্ববিদ্যালয়ের ধরন | ছুটির শুরু | ছুটির শেষ | লক্ষ্যাবলী |
|---|---|---|---|
| সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় | ১০ মার্চ ২০২৬ | শিক্ষাপঞ্জিতে নির্ধারিত সময় | বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়, কর্মকর্তা–কর্মচারীর দায়িত্বশীল আচরণ |
| বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় | ১০ মার্চ ২০২৬ | শিক্ষাপঞ্জিতে নির্ধারিত সময় | বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়, অফিস কার্যক্রম সীমিত করা |
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের সাশ্রয়মূলক পদক্ষেপ দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি কর্মকর্তাদের মধ্যে দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি ও পরিবেশবান্ধব আচরণ গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় ছাড়া দেশে চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হবে। তাই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব নির্দেশনা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ছুটির ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম সীমিত হলেও শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন ক্লাস বা জরুরি পরিষেবা প্রণালী অব্যাহত রাখা হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
মোটের ওপর, আগামীকাল থেকে শুরু হওয়া ঈদের ছুটি শুধু আনন্দের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংরক্ষণে একটি সচেতন উদাহরণ হয়ে উঠবে।