জাতীয় দলের আগে বাংলাদেশ ‘এ’ দল আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ আফ্রিকায় সফর করবে। এই সফরে টাইগার যুবাদের লক্ষ্য থাকবে দুটি চার দিনের ম্যাচ এবং তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলা, যেখানে তারা দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের সঙ্গে মাঠে নামবে। বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক শাহরিয়ার নাফিস বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শাহরিয়ার নাফিস বলেন, “২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ‘এ’ দল এই সফরে যাবে। এক বছর আগে কিছু ক্রিকেটারকে বিদেশি কন্ডিশন ও উচ্চমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সঙ্গে পরিচিত করার জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বকাপে তারা যাতে ভালোভাবে পারফরম্যান্স দেখাতে পারে, সে জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, “আমরা এ বছর দক্ষিণ আফ্রিকায় যাব, আর পরের বছর তারা বাংলাদেশে সফর করবে। এটি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও প্রস্তুতি উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।”
গত কয়েক বছর ধরে জাতীয় দলের আগে ‘এ’ দল বিদেশ সফরে গিয়ে অভিজ্ঞতা অর্জন করছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজের আগে ‘এ’ দল পাকিস্তান শাহিনসের সঙ্গে চার দিনের ম্যাচ খেলে। সেই সময় জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা—মুশফিকুর রহিম ও মুমিনুল হক—স্থানীয় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান, যা পরবর্তীতে জাতীয় দলের সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
এই ধারাবাহিকতা এবারও বজায় রাখা হচ্ছে। জাতীয় দলের অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে গত দুই বছর ডারউইনে ‘এ’ দলের ক্রিকেটাররা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের পাশাপাশি চার দিনের ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন। এটি ‘এ’ দল এবং জাতীয় দলের যৌথ উদ্যোগের একটি অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হয়েছিল।
আগামী নভেম্বরে জাতীয় দলের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরকে সামনে রেখে ‘এ’ দলের এই সফরের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে। দ্বিপাক্ষিক সিরিজের পাশাপাশি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য এই অভিজ্ঞতা খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি উন্নত করবে। বিসিবি কর্মকর্তারা মনে করছেন, বিদেশি কন্ডিশন, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ম্যাচ এবং দীর্ঘ সময়ের খেলার অভিজ্ঞতা নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের জন্য ভবিষ্যতে জাতীয় দলে ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
নিচে সফর ও ম্যাচ সংক্রান্ত মূল তথ্য সংক্ষেপে টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় |
বিবরণ |
| সফরের লক্ষ্য |
দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ২ চার দিনের ও ৩ একদিনের ম্যাচ |
| সফরের সময়কাল |
আগস্ট-সেপ্টেম্বর, ২০২৬ |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা |
শাহরিয়ার নাফিস, বিসিবি ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ |
| প্রস্তুতির কারণ |
২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে কন্ডিশন ও অভিজ্ঞতা অর্জন |
| অতীত উদাহরণ |
২০২৪ সালে পাকিস্তান সফরে ‘এ’ দল চার দিনের ম্যাচ খেলেছিল |
| জাতীয় দলের সফরের প্রভাব |
স্থানীয় কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, জাতীয় দলের সাফল্য বৃদ্ধিতে সহায়ক |
| যৌথ উদ্যোগ |
‘এ’ দল ও জাতীয় দলের কোচিং ও ব্যবস্থাপনার সমন্বয় |
সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের যুবা দল দক্ষিণ আফ্রিকায় কন্ডিশন-সচেতন অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান নিশ্চিত করবে। এটি শুধু প্রতিযোগিতার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ ও দ্বিপাক্ষিক সিরিজের জন্যও সমৃদ্ধ প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচিত হবে।