খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে আষাঢ় ১৪৩২ | ৭ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমর্থন পাচ্ছে বিএনপি—এমনটাই উঠে এসেছে সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম) ও একশনএইড বাংলাদেশের এক যৌথ জরিপে। সোমবার (৭ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে এক অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
জরিপ অনুযায়ী, ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ২ হাজার তরুণ-তরুণীর মধ্যে বিএনপি এবার নির্বাচনে ৩৮.৭৬ শতাংশ ভোট পাবে বলে মনে করেন। এরপর জামায়াতে ইসলামী পাবে ২১.৪৫ শতাংশ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাবে ১৫.৮৪ শতাংশ ভোট। আশ্চর্যজনকভাবে, বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন স্থগিত থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগ সম্পর্কে তরুণদের ধারণা, দলটি পেতে পারে ১৫.৮৪ শতাংশ ভোট।
ভোটদানে আগ্রহ
জরিপে অংশ নেওয়া তরুণদের মধ্যে ৭৬.৭৮ শতাংশ বলেছেন, তারা আগামী নির্বাচনে ভোট দেবেন। ৫.৯ শতাংশ এখনো সিদ্ধান্ত নেননি, ৪.১৪ শতাংশ ভোট না দেওয়ার কথা জানিয়েছেন এবং ১৩.৯৮ শতাংশ এখনো ভোটার নন।
রাজনৈতিক সচেতনতা ও মূল্যায়ন
জরিপে দেখা গেছে, ৮৭.৪ শতাংশ তরুণ রাজনীতির তথ্য পান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে। তারা মনে করেন, প্রচলিত রাজনীতির চেয়ে তরুণ নেতৃত্বের দলগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা বেশি—এমন মত দিয়েছেন ৪২ শতাংশ। তবে ৪০.২৪ শতাংশ নিশ্চিত নন দলগুলো তরুণদের চাহিদা আদৌ তুলে ধরতে পারছে কিনা।
তরুণদের ভাবনা: ধর্মভিত্তিক রাজনীতি
তরুণদের মধ্যে ৫১.৭৭ শতাংশ মনে করেন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি দেশের উন্নয়নে সহায়ক, বিপক্ষে ৪৮.২৩ শতাংশ। তবে এই উত্থান নিয়ে উদ্বিগ্ন ৩৮.৩৩ শতাংশ, আর ১১.৪ শতাংশ একেবারে উদ্বিগ্ন নন।
ক্ষমতায় আসতে পারে ধর্মভিত্তিক দল?
এই প্রশ্নে ৩৯ শতাংশের বেশি তরুণ বলেছেন, তারা জানেন না। ২২.৫ শতাংশ মনে করেন, ধর্মভিত্তিক দল কখনোই ক্ষমতায় আসবে না। তবে ১১ শতাংশের বেশি মনে করেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যেই তারা ক্ষমতায় আসবে।
জরিপের ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, রাজনীতিতে যেসব তরুণ আসেন তাঁরা সুযোগ–সুবিধা পাওয়ার আশায় নাকি সত্যিকারের পরিবর্তন বা আদর্শ নিয়ে আসেন, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। তিনি আরও বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব সব সময় তরুণেরাই দিয়েছেন, কিন্তু নীতিনির্ধারণে গিয়ে আর এই তরুণেরা থাকেন না।
অনুষ্ঠানে সানেমের নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, সবকিছু মিলিয়ে যে নতুন বাংলাদেশের কথা চিন্তা করা হচ্ছে সেখানে এই সময়টুকুকে কতটা কাজে লাগানো যাচ্ছে তা দেখতে হবে। পরিবর্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনেরা যদি সুযোগের সদ্ব্যবহার না করে তাহলে বড় কোনো পরিবর্তন হবে না। জুলাই অভ্যুত্থানের আশা বাস্তবায়িত হবে না।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ মুনীরুজ্জামান ভূঁঞা এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ কুদ্দুছ আলী সরকার।
খবরওয়ালা/এন