খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
ভারতের আসাম রাজ্যের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে বাংলাদেশে পাঁচ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পাইপলাইনের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল বাংলাদেশে পৌঁছাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের বাণিজ্য ও পরিচালনা বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ মোরশেদ হোসাইন আজাদ জানিয়েছেন, ভারতের নুমালিগড় শোধনাগার থেকে ডিজেল পাঠানোর পাম্পিং কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল বাংলাদেশে প্রবেশ করবে এবং পরবর্তীতে তা উত্তরাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় বিতরণ করা হবে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল আমদানি বর্তমান সময়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ। আগে ট্যাংকার বা নৌযানের মাধ্যমে জ্বালানি তেল পরিবহন করতে দীর্ঘ সময় লাগত এবং ব্যয়ও তুলনামূলক বেশি ছিল। পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ ব্যবস্থা চালু হওয়ায় পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থাও আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন প্রকল্পটি দুই দেশের জ্বালানি সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে নিয়মিতভাবে আসাম থেকে ডিজেল সরাসরি বাংলাদেশে পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে, যা দেশের উত্তরাঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
সম্প্রতি দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার প্রেক্ষাপটে সরকার অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক তৎপরতা জোরদার করেছে। এরই অংশ হিসেবে গত রবিবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে বাংলাদেশ আগামী চার মাসের মধ্যে অতিরিক্ত পঞ্চাশ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনার ফলেই দ্রুত সময়ের মধ্যে পাঁচ হাজার মেট্রিক টনের প্রথম চালানটি পাঠানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে একই পাইপলাইনের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে আরও জ্বালানি তেল সরবরাহের সম্ভাবনাও রয়েছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি শিল্প, কৃষি ও পরিবহন খাতের জন্য নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নিচে বর্তমান চালান এবং প্রস্তাবিত সরবরাহ পরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | পরিমাণ | উৎস | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| বর্তমান চালান | ৫,০০০ মেট্রিক টন | আসাম, নুমালিগড় শোধনাগার | পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ |
| প্রস্তাবিত অতিরিক্ত সরবরাহ | ৫০,০০০ মেট্রিক টন | ভারত | আগামী চার মাসে সরবরাহের প্রস্তাব |
| সরবরাহ পদ্ধতি | পাইপলাইন | ভারত–বাংলাদেশ সংযোগ | সময় ও ব্যয় সাশ্রয় |
জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আরও দক্ষ ও স্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সক্ষম হবে। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে।