খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১১ মে ২০২৫
পৃথিবীর সবচেয়ে মধুর ডাক ‘মা’। এই একটি শব্দেই মিশে আছে অসীম মমতা, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর নির্ভরতার সবটুকু আশ্রয়। প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় মা দিবস, যে দিনটি বিশেষভাবে উৎসর্গ করা হয় মাতৃরূপী সেইসব নারীদের প্রতি, যাদের ত্যাগ আর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বেড়ে ওঠে প্রতিটি সন্তান।
২০২৫ সালেও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না, ১১ই মে, রবিবার বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে মা দিবস।
আধুনিক মা দিবসের প্রচলন হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনা মারিয়া রিভস জার্ভিস ও তার কন্যা আনা জার্ভিসের হাত ধরে। অ্যান জার্ভিস ছিলেন একজন সমাজকর্মী, যিনি আমেরিকান গৃহযুদ্ধের সময় আহত সৈনিকদের সেবা এবং পরবর্তীতে শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে কাজ করেন। তার মৃত্যুর পর, তার কন্যা আনা জার্ভিস মায়েদের অবদানের স্বীকৃতির জন্য একটি বিশেষ দিন পালনের উদ্যোগ নেন। আনা জার্ভিসের অক্লান্ত পরিশ্রমে ১৯০৮ সালে প্রথম মা দিবস পালিত হয় পশ্চিম ভার্জিনিয়ার একটি গির্জায়। অবশেষে ১৯১৪ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে ‘মা দিবস’ হিসেবে সরকারি ছুটির দিন ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই দিনে মা দিবস পালনের সংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশে এই দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়, যদিও কিছু দেশে ভিন্ন ভিন্ন তারিখেও মা দিবস উদযাপনের রেওয়াজ রয়েছে।
বাংলাদেশেও প্রতি বছর মে মাসের দ্বিতীয় রবিবার মা দিবস পালিত হয়। দিনটিকে ঘিরে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।সন্তানরা তাদের সাধ্যমতো মায়ের জন্য উপহার কেনে, ফুল দেয় এবং ভালোবাসা প্রকাশ করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোও ভরে ওঠে মায়ের ছবি আর ভালোবাসাময় বার্তা দিয়ে। বিভিন্ন অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রত্নগর্ভা মায়েদের সম্মাননা জানানো হয়, যা সমাজে মায়েদের অবদানকে আরও বেশি করে সামনে নিয়ে আসে। তবে এই দিবসটি শুধু উপহার দেওয়া বা লোকদেখানো আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, বরং মায়ের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হয়।
খবরওয়ালা/এফএস