খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে কার্তিক ১৪৩২ | ১৩ই নভেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পুরান ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী তারিক সাইফ মামুন (৫৫) হত্যায় অংশ নেওয়া দুই শুটারসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃত দুই শুটার হলেন ফারুক হোসেন ফয়সাল এবং রবিন আহমেদ (পিয়াস)। এছাড়া রুবেল, শামীম আহমেদ এবং ইউসুফ (জীবন) নামের অপর তিনজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র, হত্যার পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া নগদ টাকা এবং মোটরসাইকেলও উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবি জানায়, হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন রনি, যিনি এক সময় মুদি দোকানি ছিলেন এবং বর্তমানে কাফরুলের বাসিন্দা। রনি ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের আলোচিত সন্ত্রাসী জুটি ইমন-মামুনের দ্বন্দ্বের অংশ। এই হত্যাকাণ্ড মূলত আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘটিত হয়েছে। রনি হত্যার জন্য নিজে দুই লাখ টাকা প্রদান করেছিলেন এবং অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন।
গত ১০ নভেম্বর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রবেশের পথে দুজন অস্ত্রধারী তারিক সাইফ মামুনকে গুলি করে গুরুতর আহত করে। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হত্যাকাণ্ডের পর ডিবি একটি ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। গোয়েন্দা তথ্য ও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর ফারুক এবং রবিন তাদের ব্যবহৃত অস্ত্র রনি এবং রুবেলের কাছে পাঠিয়ে দেয়। রুবেল অস্ত্র এবং গুলি পাওয়ার পর তা রনিকে মোবাইল ফোনে জানিয়ে দেয়। এরপর রুবেল এবং ইউসুফের বাসায় অভিযান চালিয়ে দু’টি বিদেশি পিস্তল, ৬ রাউন্ড গুলি এবং ২টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
ডিবি জানায়, মামুনের হত্যার পেছনে মূল পরিকল্পনা ছিল আন্ডারওয়ার্ল্ডের আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব। ইমন এবং মামুনের মধ্যে নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি, রনি তার সঙ্গীদের সহায়তায় একাধিকবার মামুনকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল। শেষমেশ, ১০ নভেম্বরকে হত্যার জন্য নির্বাচিত করা হয়, কারণ ওই দিন মামুনকে একটি মামলায় হাজিরা দিতে হতে ছিল।
ঘটনার আগের দিন সন্ধ্যায়, রনি রবিনকে ফোন করে হত্যাকাণ্ডের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেয়। হত্যার পর, ফারুক এবং রবিন রায়েরবাজার এলাকায় গিয়ে অস্ত্র এবং গুলি রুবেল এবং ইউসুফের কাছে জমা দেয়। পরবর্তীতে, তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, রনি তাদের ২ লাখ টাকা প্রদান করে, যার মাধ্যমে প্রত্যেক শুটারকে ১ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ডের পর, ফারুক, রবিন, রুবেল এবং শামীম তাদের মোবাইল ফোনগুলো সরিয়ে নেয়, যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের ট্র্যাক করতে না পারে। এরপর তারা সিলেট চলে যায় এবং ভারতে পালানোর চেষ্টা করে, তবে শেষ পর্যন্ত ডিবি তাদের গ্রেপ্তার করে।