খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশের নারী ফুটবলের মানচিত্র এখন আর কেবল পাহাড়ি এলাকা কিংবা বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। তৃণমূলের অদম্য ইচ্ছা আর দারিদ্র্যের কশাঘাত জয় করে জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিচ্ছেন ময়মনসিংহের নান্দাইলের মতো মফস্বলের কন্যারা। আগামী ১ মার্চ থেকে ২১ মার্চ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার তিনটি শহরে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এশীয় নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর ‘এশিয়ান কাপ ২০২৬’। এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টা ৫০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে উড়াল দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। সেই ২৬ সদস্যের বহরে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে প্রতিনিধিত্ব করছেন নান্দাইলের তিন গর্বিত নারী ফুটবলার।
নান্দাইলের যে তিন কন্যা আন্তর্জাতিক এই আসরে অংশ নিচ্ছেন, তাঁরা হলেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার, মিডফিল্ডার সৌরভী আকন্দ প্রীতি এবং ফরোয়ার্ড হালিমা আক্তার। তাঁদের প্রত্যেকের উঠে আসার গল্প রূপকথার চেয়েও কম কিছু নয়।
১. মিলি আক্তার (গোলরক্ষক): চন্ডীপাশা ইউনিয়নের বারুইগ্রামের অতি সাধারণ এক পরিবারের সন্তান মিলি। তাঁর বাবা মো. সামছুল হক পেশায় একজন কলা বিক্রেতা। ২০২২ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয়ের পর থেকেই মিলি পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত আছেন এবং জাতীয় দলে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করেছেন।
২. সৌরভী আকন্দ প্রীতি (মিডফিল্ডার): জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের বারঘরিয়া গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান প্রীতি। ২০১৮ সালে বঙ্গমাতা গোল্ডকাপের হাত ধরে ফুটবলে তাঁর যাত্রা শুরু। এরপর অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে হ্যাটট্রিক করে সাড়া ফেলে দেন তিনি। মাঝমাঠের দখল রাখায় তিনি ইতিমধ্যেই আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।
৩. হালিমা আক্তার (স্ট্রাইকার): শেরপুর ইউনিয়নের রাজাবাড়িয়া গ্রাম থেকে উঠে আসা এই অ্যাথলেটের বাবা দুলাল মিয়া অত্যন্ত অভাবের মধ্যে সংসার চালালেও মেয়ের প্রতিভা বিকাশে বাধা হননি। ২০১৯ সাল থেকেই হালিমা বয়সভিত্তিক পর্যায়ে সফলতার স্বাক্ষর রাখছেন এবং বিভিন্ন দেশে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন।
এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে শক্তিশালী চীন, উত্তর কোরিয়া এবং উজবেকিস্তান। অভিজ্ঞতা ও শক্তির বিচারে বাংলাদেশের চেয়ে তারা অনেক এগিয়ে থাকলেও কোচ পিটার বাটলারের শিষ্যরা লড়াই করতে প্রস্তুত। নিচে বাংলাদেশের ম্যাচের সময়সূচি দেওয়া হলো:
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | দলগত বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব |
| ৩ মার্চ ২০২৬ | চীন | চীন এ আসরের রেকর্ড ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন। |
| ৬ মার্চ ২০২৬ | উত্তর কোরিয়া | ৩ বারের চ্যাম্পিয়ন ও শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী। |
| ৯ মার্চ ২০২৬ | উজবেকিস্তান | পাঁচবার এশিয়ান কাপে খেলা অভিজ্ঞ দল। |
বাংলাদেশের জন্য প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে অংশগ্রহণ করাটাই এক বড় অর্জন। ময়মনসিংহের নান্দাইলের মতো অজপাড়াগাঁ থেকে উঠে আসা মিলি, প্রীতি ও হালিমারা প্রমাণ করেছেন যে, কঠোর পরিশ্রম আর সুযোগ পেলে বাংলার মেয়েরা বিশ্ব জয় করতে পারে। জাতীয় দলে আফঈদা খন্দকার ও ঋতুপর্ণা চাকমাদের মতো অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এই তিন কন্যা অস্ট্রেলিয়ার মাঠে বাংলার গৌরব বয়ে আনবেন—এমনটাই প্রত্যাশা পুরো দেশের। তাদের এই যাত্রা আগামী প্রজন্মের হাজারো মেয়ের কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।