এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ জুন ২০২৫
২৩ জুন—আজকের দিনটি কেবল একটি জন্মদিন নয়, আজকের দিনটি এক আলোকবর্তিকার জন্মোৎসব। এই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মনীষী, ভাষাচিন্তক, সমাজসচেতন প্রাবন্ধিক ও শিক্ষক অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
দীর্ঘকাল তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে অধ্যাপনায় নিয়োজিত থেকে প্রজন্মের পর প্রজন্ম শিক্ষার্থীকে আলোকিত করেছেন। আজ তিনি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক—এই উপাধি কেবল মর্যাদার নয়, গৌরবের, অর্জনের এবং দায়িত্বের।
তাঁর লেখনী সাহিত্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে সমাজ, রাষ্ট্র, ইতিহাস ও সময়ের গভীরে প্রবেশ করেছে। আশির দশকে “গাছপাথর” ছদ্মনামে দৈনিক সংবাদ-এ প্রকাশিত তাঁর প্রবন্ধসমূহ আজও পাঠকের চিন্তা-চেতনাকে নাড়া দেয়। সমাজতান্ত্রিক দর্শনের প্রতি তাঁর নিষ্ঠা এবং যুক্তিবোধের প্রতি অবিচল অবস্থান তাঁকে আমাদের সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিজীবীর আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।
তাঁর চিন্তার স্পষ্ট প্রতিফলন আমরা পেয়েছি নতুন দিগন্ত পত্রিকার মাধ্যমে—যা তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একজন চিন্তানায়ক হিসেবে। শ্রেণি-সচেতনতা, মুক্তবুদ্ধির চর্চা কিংবা প্রতিকূলতার মুখে সত্য উচ্চারণ—তিনি কখনো আপোস করেননি।
তাঁর কৃতিত্বের তালিকা দীর্ঘ ও দীপ্তিমান—
বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৭৬), একুশে পদক (১৯৯৬), লেখক সংঘ, মাহবুবউল্লাহ ফাউন্ডেশন, শেলটেক, প্রথম আলোসহ বহু প্রতিষ্ঠান থেকে তিনি পেয়েছেন সম্মাননা ।
এই স্বীকৃতিগুলো এক চিন্তাবিদের কর্মজীবনের উজ্জ্বল স্বাক্ষর।
আজ তাঁর জন্মদিনে আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি তাঁর অনন্য অবদানকে—তিনি কেবল মানুষ গড়ার কারিগরই নন, ভাষা ও বোধ নির্মাণের এক অক্লান্ত স্থপতিও।
শুভ জন্মদিন, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।
আপনার কলম এবং কণ্ঠ হোক মুক্তির পথে অগ্রদূত।
লেখক, সম্পাদক ও প্রকাশক, খবরওয়ালা
খবরওয়ালা/এমএজেড