খবরওয়ালা স্পোর্টস ডেস্ক:
প্রকাশ: 7শে আশ্বিন ১৪৩২ | ২২ই সেপ্টেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বিসিবি নির্বাচনে জেলা ও বিভাগের এডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলর চেয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের পাঠানো চিঠির কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। হাইকোর্ট আদেশ দেওয়ার দেড় ঘণ্টা পর এই আদেশ দেওয়া হয়।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাইকোর্টের আদশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব এ আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, শুনানি ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মুলতুবি করা হলো এবং সে সময় পর্যন্ত স্থগিত করা হলো।
সাধারণ পরিষদে কাউন্সিলর মনোনয়নের ফরম বাতিল করে নতুন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে জমা দিতে বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলাম ১৮ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিভাগীয়/জেলা ক্রীড়া সংস্থা বরাবর চিঠি দেন। এই চিঠির বৈধতা নিয়ে করা এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন।
হাইকোর্ট রুল দিয়ে বিসিবির সভাপতির ১৮ সেপ্টেম্বর দেওয়া ওই চিঠির কার্যকারিতা ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করেন। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে। আবেদনটি সোমবার চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। শুনানি নিয়ে বিকেল পাঁচটার দিকে আদেশ দেওয়া হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ।
তফসিল অনুযায়ী, মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের বিসিবি কার্যালয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে সোমবার সন্ধ্যা সাতটায় খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করার কথা বিসিবির।
পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ বলেন, হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত হওয়ায় বিসিবির আজকে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে কোনো বাধা নেই। বিসিবির সভাপতির ১৮ সেপ্টেম্বর দেওয়া চিঠি বহাল থাকছে। এ অনুসারে এডহক কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে নাম পাঠাতে হবে। যদি না পাঠানো হয় তাহলে যা আছে, তার ভিত্তিতে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে।
তফসিল অনুযায়ী, বিসিবির নির্বাচনের তারিখ ৬ অক্টোবর। পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন শেষে ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচিত ২৫ জন পরিচালকের মধ্য থেকে বোর্ড সভাপতি ও সহসভাপতি নির্বাচন হয়ে থাকে। বিসিবির সাধারণ পরিষদের সদস্যরাই (কাউন্সিলর) পরিচালক পদের জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। সর্বশেষ বিসিবি নির্বাচনে কাউন্সিলদের সংখ্যা ছিল ১৭০ জনের মতো।
প্রথমে কাউন্সিলরদের নাম জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ১৭ সেপ্টেম্বর। দুই দফা সময় বাড়িয়ে তা শেষ হচ্ছে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায়। এর মধ্যে ১৮ সেপ্টেম্বর ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের গঠনতন্ত্র (২০২৪ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী সাধারণ পরিষদের কাউন্সিলরের চূড়ান্ত তালিকা প্রণয়ন প্রসঙ্গে’ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং বিভাগীয়/জেলা ক্রীড়া সংস্থা বরাবরে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের সই করা চিঠি পাঠানো হয়।
চিঠিতে বলা হয়, বিসিবির কাউন্সিলর হিসেবে জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটির সদস্যদের মধ্য থেকে নাম প্রেরণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা যথাযথভাবে মানা হয়নি। আগের ফরম বাতিল করে বিসিবি থেকে পাঠানো নতুন ফরম যথাযথভাবে পূরণ করে ২২ সেপ্টেম্বর (সোমবার) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে কাউন্সিলরের নাম পাঠাতে অনুরোধ করা যাচ্ছে।
ওই চিঠির বৈধতা নিয়ে এ বি এম মনজুরুল আলমসহ চারজন কাউন্সিলর (১৮ সেপ্টেম্বরের আগে মনোনীত) সোমবার রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. শফিকুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ, সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ ও জামিলা মমতাজ এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ইকরামুল কবির।
হাইকোর্টের আদেশের পর রিট আবেদনকারীদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস সাংবাদিকদের বলেন, বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলামের ১৮ সেপ্টেম্বরের ইস্যু করা চিঠির কার্যকারিতা ১৫ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। সুতরাং ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ক্রিকেট বোর্ড পৌছানো কাউন্সিলর যারা বিভিন্ন জেলা থেকে এসেছেন, তারাই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। এ কারণে নির্বাচন বাধাগ্রস্ত কিংবা নির্বাচন হবে না—এমন মনে করার কোনো আশঙ্কা দেখছেন না।
হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস বলেন, পূর্বের মনোনয়ন বাতিল করে নতুন করে কাউন্সিল মনোনয়নের জন্য বিসিবির সভাপতি আমিনুল ইসলামের ১৮ সেপ্টেম্বর সই করা চিঠি কেন অবৈধ এবং ক্ষমতা বর্হিভূত হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে। বিবাদীদের ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। চিঠির কার্যকারিতা স্থগিত হওয়ায় ইতিপূর্বে যেসব কাউন্সিলর (ক্যাটাগরি–এ) মনোনীত হয়েছিলেন এবং তাদের নাম ক্রিকেট বোর্ডে পাঠানো হয়েছিল, তারাই নির্বাচনে কাউন্সিলর হিসেবে নিযুক্ত থাকবেন এবং ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে, যার ওপর শুনানি নিয়ে চেম্বার আদালত হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করেছেন। ফলে বিসিবির সভাপতির ১৮ সেপ্টেম্বর দেওয়া চিঠি বহাল থাকছে বলে জানিয়েছেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ।
খবরওয়ালা/এসআর