চলতি জুন মাসে দেশের আবহাওয়ায় তাপমাত্রার ঊর্ধ্বগতি এবং বৃষ্টিপাতের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়া বিশ্লেষণে সংস্থাটি জানিয়েছে, এ মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি মাসজুড়ে দুই থেকে তিন দফা মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যা জনজীবন, কৃষি কার্যক্রম এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর গত সোমবার প্রকাশিত জুন মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানিয়েছে, এ মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও চলতি বছরের এপ্রিল ও মে মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের তুলনায় ৭৫ শতাংশেরও বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর প্রেক্ষাপটে একটি ব্যতিক্রমী আবহাওয়াগত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জুন মাসে বঙ্গোপসাগর ও আশপাশের এলাকায় একাধিক লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এসব লঘুচাপের মধ্যে অন্তত একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব আবহাওয়াগত ব্যবস্থার প্রভাব সত্ত্বেও দেশের সামগ্রিক বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাধারণত জুন মাস বাংলাদেশের বর্ষা মৌসুমের সূচনালগ্ন। এ সময় দেশে গড়ে ৪৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়, যা বছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মাসিক বৃষ্টিপাত। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় জুলাই মাসে, যখন গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় ৫২৩ মিলিমিটার।
মৌসুমি বায়ুও জুন মাসের শুরু থেকেই দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে বিস্তার লাভ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। তবে মৌসুমি বায়ুর অগ্রগতির পাশাপাশি তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। ফলে বৃষ্টির মাঝেও গরমের অস্বস্তি বজায় থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
জুন মাসের সম্ভাব্য আবহাওয়া পরিস্থিতি
বিষয়
পূর্বাভাস
বৃষ্টিপাত
স্বাভাবিকের তুলনায় কম
তাপমাত্রা
স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি
তাপপ্রবাহ
২ থেকে ৩ দফা মৃদু থেকে মাঝারি
লঘুচাপ
একাধিক সৃষ্টির সম্ভাবনা
মৌসুমি নিম্নচাপ
অন্তত ১টি হওয়ার সম্ভাবনা
মৌসুমি বায়ু
মাসের শুরুতেই বিস্তার লাভ করতে পারে
অন্যদিকে, মে মাসের আবহাওয়া পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দেশজুড়ে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে সবচেয়ে বেশি অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে রংপুর বিভাগে, যেখানে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৯৯ শতাংশ বেশি ছিল। বিপরীতে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বরিশাল বিভাগে তুলনামূলকভাবে কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে জুন মাসের প্রথম দিন থেকেই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপপ্রবাহের প্রভাব দেখা গেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলা, রংপুর বিভাগের আটটি জেলা এবং খুলনা বিভাগের ১০টি জেলার পাশাপাশি টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, নরসিংদী, গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, বরিশাল ও ভোলাসহ মোট ৩৪ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এতে দিনের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অনেক এলাকায় গরমজনিত অস্বস্তি বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জুন মাসে বৃষ্টিপাত কম এবং তাপমাত্রা বেশি থাকলে কৃষি, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও বাইরে কর্মরত মানুষের জন্য তাপপ্রবাহের সময় প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিবর্তনশীল পরিস্থিতির কারণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নিয়মিত পূর্বাভাস অনুসরণ করারও আহ্বান জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।