খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 31শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১৫ই জুলাই ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর ইউনিয়নে ভুয়া প্রতিবন্ধী কার্ড বানিয়ে সরকারি ভাতা আত্মসাতের অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের বাদ দিয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষদের নামে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে সাবেক সংরক্ষিত নারী সদস্য নিগার সুলতানা হীরার মাধ্যমে।
নেহালপুর ইউনিয়নের গৃহবধূ শিউলি রানী দে বলেন, “হীরা মেম্বার বলল, টাকা দিলে একটা কার্ড করে দেবে। কিন্তু প্রতিবন্ধী কার্ড করে দেবে তা জানতাম না। আমি তো সুস্থ মানুষ।”
তার মতো একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন সাজেদা বেগম, কহিনুর বেগম, খলিলুর রহমান, শাহিনারা খাতুন পান্না, খালেক মোল্যা ও তহমিনা বেগম—যাদের সবাই সুস্থ, তবু তারা সরকারি তালিকায় ‘প্রতিবন্ধী’। অভিযোগ উঠেছে, কার্ড করে দিতে তাদের কাছ থেকে ৩-৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়েছে।
২০২৪ সালে নেহালপুর ইউনিয়নে প্রতিবন্ধী ভাতা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় ৮১ জনকে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি আসলে কোনো ধরনের শারীরিক অক্ষমতায় ভুগছেন না। আবেদন যাচাই-বাছাই ছাড়াই শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও আর্থিক প্রভাব খাটিয়ে এই কার্ড করে দেওয়া হয়েছে।
ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তা আসাদুল হক চঞ্চল, ইউপি সদস্য শাহিদুল ইসলাম, সংরক্ষিত নারী সদস্য লাকি খাতুন ও আলেয়া বেগম স্বীকার করেছেন, এই অনিয়মের সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তাদের দাবি, সাবেক নারী মেম্বার হীরা একাই এই কার্ড বানিয়ে দিয়েছেন টাকার বিনিময়ে।
৪নং ওয়ার্ডের সাজেদা বেগম বলেন, ‘হীরা মেম্বার জরিপ ও অনলাইন খরচের কথা বলে আমার কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়েছেন। বলেছিলেন, একটা কার্ড করে দিবেন। কিন্তু প্রতিবন্ধী কার্ড হবে জানতাম না। আমি তো অক্ষম না।’
তালিকায় রয়েছে আরও সুস্থ ব্যক্তিদের নাম, যেমন—খলিলুর রহমান ও কহিনুর বেগম (স্বামী-স্ত্রী), শাহিনারা খাতুন পান্না, খালেক মোল্যা ও তহমিনা বেগম। এদের কেউই বাস্তবে কোনো প্রতিবন্ধকতায় ভুগছেন না।
নেহালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি এম খলিলুর রহমান বলেন, ‘সাবেক মেম্বার হীরা কিছু সুস্থ মানুষের নামে কার্ড করে দিয়েছেন শুনেছি। আমি চাই সমাজসেবা অফিস নতুন করে তদন্ত করে প্রকৃত প্রতিবন্ধীদের যেন ভাতা দেয়।’
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শওকত সরদার বলেন, “আমি বহুবার নিষেধ করেছি হীরা মেম্বারকে। কিন্তু তিনি কারও কথা শোনেননি। তিনি মহিলা বিষয়ক ও সমাজসেবা কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে কার্ড বানিয়েছেন।”
অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক মেম্বার নিগার সুলতানা হীরা বলেন, “আমি শুধু কাগজপত্র জমা দিয়েছি। কার্ড দিয়েছে সমাজসেবা অফিস। এখানে আমার কী করার আছে?”
মনিরামপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন বলেন, “আমি সদ্য এখানে যোগ দিয়েছি। শুনেছি প্রাথমিক জরিপে ৮১ জনকে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় অনুমোদন দেন প্যানেল চেয়ারম্যান। যদি কেউ প্রকৃতপক্ষে প্রতিবন্ধী না হয় এবং অভিযোগ আসে, তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।’
খবরওয়ালা/এমএজেড