খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে ভাদ্র ১৪৩২ | ১৯ই আগস্ট ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক খালেদ মাসুদ তালুকদারের (সুহেল) কথোপকথনের একটি অডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ৬ মিনিট ১০ সেকেন্ডের ওই অডিওতে চাঁদাবাজি, বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রণসহ নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা শোনা যায়। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) সকালে অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
খালেদ মাসুদের বাড়ি উপজেলার চাঁদপুর গ্রামে। তিনি পুলিশের ময়মনসিংহ রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আশরাফুর রহমানের ভগ্নিপতি।
অডিওতে খালেদ মাসুদকে বলতে শোনা যায়, ‘৬ লাখ টাকা এককালীন দিছে, আর এক লাখ করে প্রতি মাসে দিবার লাগছে।’ পাশের একজন তখন বলেন, ‘তুমি ডিআইজিকে পচাবার লাগছ।’ জবাবে খালেদ মাসুদ বলেন, ‘আমি ডিআইজির নাম করেই খাই। আমি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, ডিআইজির বইনতে, আমি খাবু না তে ক্যারা খাব।… আপনি আইসে যদি ২ লাখ টাকা দিয়ে বলেন, ভাই আপনি একটু দেইখেন, আমি কইলাম, দেখলাম। তাইলে আমার ২ লাখ টাকা হজম হইল না, হালাল হইল?’
তিনি আরও বলেন, ‘ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার ওসি আইসা কইল, ভাই ২ লাখ টাকা থাকল, একটু দেইখেন আমার মুক। আমি ২ লাখ টাকা নিয়ে ওরে ভালো করে দেখলাম।… ৬ লাখ টাকা একবারে দিছে আর এক লাখ করে প্রতি মাসে দেয়, না হইলে গাড়ি বন্ধ। ময়মনসিংহের সব বালু আমার উনতনে থেকে যায়।’
কথোপকথনে অংশ নেওয়া অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি। একপর্যায়ে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘তাহলে আমাকে বহিষ্কার করো… আমি সুহেল চান্দাবাজি-ধান্দাবাজি করবার লাগছে, তাহলে বহিষ্কার করে দাও।’
ছড়িয়ে পড়া অডিওটি নিজের বলে স্বীকার করেছেন খালেদ মাসুদ তালুকদার। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি বলেন, ‘প্রথমেই আমার ভুল স্বীকার করছি। বিষয়টি আমি আসলেই বুঝতে পারি নাই। একটি মহল কখনোই চায়নি আমি পৌর বিএনপির সেক্রেটারি হই। এখন আমি যদি নির্বাচন করি, তাই আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ ষড়যন্ত্র করছে। মাঝেমধ্যে তাঁরা আমাকে উসকানি দিয়ে এসব বলাতেন, আমি বুঝতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি খুব সৎভাবে চলাফেরা করি। তাঁরা উসকানি দিয়ে এসব বলিয়েছে। আমি খুব লজ্জিত, এমন লজ্জিত আগে হইনি। আপনারা এসে দেখুন, আমি এলাকায় এমন কিছু করছি না। আর ওই অডিও অনেক আগের।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি মঞ্জুর কাদের বাবুল খান বলেন, ‘আমি অডিওটি শুনেছি। তাঁর কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। ব্যাখ্যা পাওয়ার পর যাচাই-বাছাই করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সূত্র: প্রথম আলো
খবরওয়ালা/এন