খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 19শে চৈত্র ১৪৩২ | ২ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পাকিস্তান নৌবাহিনী ও চীনের পিপল’স লিবারেশন আর্মি নেভির যৌথ সামুদ্রিক মহড়া ‘সি গার্ডিয়ান-৪’ সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। মহড়ার মূল লক্ষ্য ছিল দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে সমন্বয়, কৌশলগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা দৃঢ় করা। পাকিস্তানের সামরিক সূত্র ও সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এই মহড়া গত ২৫ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মহড়া দুটি পর্যায়ে বিভক্ত ছিল। প্রথম পর্যায় ‘পোর্ট ফেজ’, যা করাচি বন্দরে পাঁচ দিন ধরে চলে। এ সময়ে দুই দেশের নৌকাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিক স্বাগত, নৌ স্থাপনা পরিদর্শন, পেশাগত আলোচনা ও বিভিন্ন সেমিনার আয়োজন করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায় ‘সি ফেজ’ হিসেবে উত্তর আরব সাগরে দুই দিনের যৌথ সামরিক অনুশীলন সম্পন্ন করা হয়।
করাচি বন্দরে চীনা নৌবাহিনীর জাহাজকে পিএনএস তাইমুর দ্বারা স্বাগত জানানো হয়। এই সময় দুই দেশের প্রতিনিধিদল নৌকৌশল, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য বিনিময় করে। বিশেষভাবে, পোর্ট ফেজের আলোচনায় পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার নতুন দিক চিহ্নিত করা হয়।
সি ফেজে যৌথ টহল, লক্ষ্য নির্ধারণ, সামরিক কৌশল ও অনুশীলনের মাধ্যমে দুই নৌবাহিনীর সমন্বয় শক্তিশালী করা হয়। মহড়ার সমাপ্তি আরব সাগরে যৌথ টহলের মাধ্যমে হয়, যা দুই দেশের আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি প্রতিশ্রুতি প্রদর্শন করে।
নিচের টেবিলে মহড়ার প্রধান তথ্য সংক্ষেপে দেখানো হলো:
| মহড়ার নাম | অংশকাল | স্থান | মূল কার্যক্রম |
|---|---|---|---|
| সি গার্ডিয়ান-৪ | ২৫ মার্চ – ১ এপ্রিল | করাচি বন্দর ও আরব সাগর | পোর্ট ফেজ: আলোচনাসভা, নৌ পরিদর্শন, সেমিনার; সি ফেজ: যৌথ কৌশলগত অনুশীলন |
| পোর্ট ফেজ | ২৫–২৯ মার্চ | করাচি বন্দর | আনুষ্ঠানিক স্বাগত, নৌ স্থাপনা পরিদর্শন, পেশাগত আলোচনা, সেমিনার |
| সি ফেজ | ৩০–৩১ মার্চ | উত্তর আরব সাগর | যৌথ টহল, কৌশলগত অনুশীলন, সামরিক সমন্বয় বৃদ্ধি |
মহড়ার শেষ দিনে উভয় পক্ষ যৌথ টহল সম্পন্ন করে, যা আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীলতা রক্ষায় তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। এই মহড়ার মাধ্যমে পাকিস্তান ও চীনের নৌবাহিনীর মধ্যে কৌশলগত সমন্বয় ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে, যা ভবিষ্যতে যৌথ প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহযোগিতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মহড়ার সফল সমাপ্তি দুটি দেশের মধ্যে স্থিতিশীলতা, শান্তি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যকে শক্তিশালী করেছে।