খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 17শে চৈত্র ১৪৩২ | ৩১ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সাড়ে তিন বছর আগে লুসাইলের সেই রাত ফুটবল বিশ্বের এক স্বর্ণযুগের প্রতীক। লিওনেল মেসির হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি দেখা শুধু আর্জেন্টিনার নয়, পুরো ফুটবল বিশ্বের জন্য এক অনন্য মুহূর্ত। সাতটি ম্যাচে সাতটি গোল, ফাইনালে দুটি গোল এবং তিনটি সহায়তা—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা। ‘গোল্ডেন বল’ তাঁর হাতে ওঠা নিঃসন্দেহে প্রকৃতির নিয়ম। মেসি কেবল অধিনায়ক ছিলেন না; তিনি ছিলেন দলের প্রাণ, মানসিক শক্তি এবং খেলার ছন্দ।
তবে আর্জেন্টিনাকে শুধুই ‘মেসির দল’ বলা যথেষ্ট নয়। হুলিয়ান আলভারেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং এনজো ফার্নান্দেজরা বিশ্বমঞ্চে নিজেদের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। ফার্নান্দেজ সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন। নিকোলাস ওতামেন্দি রক্ষণে অদম্য নেতৃত্ব দেখিয়েছেন। আনহেল দি মারিয়া দুর্দান্ত খেলার ছাপ রেখেছেন। এমিলিয়ানো মার্তিনেজ পেনাল্টি শুটআউটে প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্কের নাম হয়ে উঠেছেন।
সৌদি আরবের কাছে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে হারের পর দলের আত্মবিশ্বাসের পুনরুদ্ধার এবং একতা ছিল আর্জেন্টিনার বড় শক্তি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার চিত্র কিছুটা ভিন্ন।
কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনার বাছাইপর্ব চমৎকার। কনমেবল টেবিলে শীর্ষে থেকে তারা দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইকুয়েডরের চেয়ে ৯ পয়েন্ট এগিয়ে বিশ্বকাপে নিশ্চিত হয়েছে।
| পরিসংখ্যান | আর্জেন্টিনা | প্রধান তথ্য |
|---|---|---|
| ম্যাচ সংখ্যা | ১৮ | ১৪ জয়, ২ হার, ২ ড্র |
| গোল সংখ্যা | ৩২ | সর্বাধিক গোলদাতা মেসি (৮) |
| হারের দল | ২ | উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে |
| ড্র | ২ | কলম্বিয়া (১-১) |
পরিসংখ্যান চমৎকার হলেও ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। উরুগুয়ে ও ব্রাজিলের মতো চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীরা চতুর্থ ও পঞ্চম স্থানে থাকলেও হারের সংখ্যা এবং ড্র সতর্কবার্তা।
প্রতি ম্যাচেই আর্জেন্টিনার প্রস্তুতি পর্যাপ্ত ছিল না। মৌরিতানিয়া এবং জাম্বিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ জিতলেও খেলা প্রাণবন্ত ছিল না। কোচ লিওনেল স্কালোনি বলেছেন, “ম্যাচে আমরা ভালো খেলিনি এবং এটাই বাস্তব।” গোলরক্ষক মার্তিনেজ আরও যোগ করেছেন, “গতি, তীব্রতা ও খেলার মান সবই কম ছিল।”
ফিনালিসিমা বাতিল হওয়ায় স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের সঙ্গে খেলতে পারার সুযোগও হারিয়েছে আর্জেন্টিনা। এটি দলের প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাসের জন্য বড় ক্ষতি।
৩৭ বছর বয়সী মেসি এখনও দলের মূল চালিকাশক্তি। মায়ামিতে খেলে ৪ ম্যাচে ৪ গোল করেছেন, তবে পূর্ণ ৯০ মিনিটের ধারাবাহিক খেলা ও বিশ্বকাপের চাপ কতটা সহ্য করতে পারবেন তা প্রশ্নবিদ্ধ। মেসি না থাকলে ফরোয়ার্ড ও মিডফিল্ডে অভিজ্ঞতার ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ। হুলিয়ান আলভারেজ, লাওতারো মার্তিনেজ ও ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানো কিছু আশার আলো, কিন্তু তাদের অভিজ্ঞতা সীমিত।
ওতামেন্দি ও রোমেরোসহ বয়স এবং ইনজুরি সমস্যা রক্ষণকে দুর্বল করেছে। লিসান্দ্রো মার্তিনেজ ও গনসালো মন্তিয়েল চোটে ভুগছেন। বামপ্রান্তে তালিয়াফিগো ও মার্কোস আকুনিয়ার পারফরম্যান্স পিছিয়ে। গোলরক্ষক মার্তিনেজও মাঝে মাঝে সহজ ভুল করছেন।
সারসংক্ষেপে, আর্জেন্টিনার জন্য ২০২৬ বিশ্বকাপে সফল হওয়া কঠিন। দলের নাম বড় হলেও ধারাবাহিকতা, ফর্ম এবং মেসির ফিটনেসের উপর নির্ভর করছে সবকিছু। মেসির পায়ে কি এখনও সেই অলৌকিক ক্ষমতা আছে, সেটাই দলের ভাগ্য নির্ধারণ করবে।