খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা দৌড় এখন এক রোমাঞ্চকর মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। গত রবিবারের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে লন্ডন ডার্বিতে চেলসিকে ২-১ গোলে পরাজিত করে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে মিকেল আর্তেতার আর্সেনাল। এই জয়ের ফলে দ্বিতীয় স্থানে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ৫ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে গেল গানাররা। অন্যদিকে, ওল্ড ট্রাফোর্ডে মাইকেল ক্যারিকের জাদুকরী স্পর্শে ক্রিস্টাল প্যালেসকে হারিয়ে লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।
এমিরেটস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে আর্সেনালের জয়ের প্রধান কারিগর ছিলেন দুই রক্ষণভাগের অতন্দ্র প্রহরী—উইলিয়াম সালিবা ও ইয়ুরিয়েন টিম্বার। ম্যাচের শুরু থেকেই আর্সেনাল তাদের চিরচেনা সেট-পিস কৌশলে চেলসিকে কোণঠাসা করে রাখে। ২১ মিনিটে গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েসের একটি শক্তিশালী হেড থেকে বল পেয়ে জাল খুঁজে নেন সালিবা। তবে চেলসি ম্যাচে ফিরে আসে নাটকীয়ভাবে; রিস জেমসের একটি ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে আত্মঘাতী গোল করে বসেন গানার ডিফেন্ডার পেদ্রো হিনকাপিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে আর্সেনাল আবারও তাদের সেট-পিসের দক্ষতা প্রদর্শন করে। ডেকলান রাইসের নিখুঁত এক কর্নার কিক থেকে চেলসি গোলরক্ষক রবার্ট সানচেজের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জয়সূচক গোলটি করেন ইয়ুরিয়েন টিম্বার। উল্লেখ্য যে, চলতি মৌসুমে এটি কর্নার থেকে আর্সেনালের ১৬তম গোল, যা প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে এক মৌসুমে কর্নার থেকে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে। ম্যাচের শেষ দিকে চেলসির পেদ্রো নেতো লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়লে ব্লুজদের ফেরার পথ পুরোপুরি রুদ্ধ হয়ে যায়।
শীর্ষ চারের লড়াই এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র। আর্সেনালের আধিপত্যের পাশাপাশি ইউনাইটেডের পুনরুত্থান লিগের সমীকরণ বদলে দিচ্ছে।
| দল | অবস্থান | পয়েন্ট ব্যবধান/পরিসংখ্যান | মূল বৈশিষ্ট্য |
| আর্সেনাল | ১ | ৫ পয়েন্টে এগিয়ে (সিটির চেয়ে) | এক মৌসুমে কর্নার থেকে ১৬ গোল (রেকর্ড)। |
| ম্যানচেস্টার সিটি | ২ | তাড়া করছে শীর্ষস্থান | শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে চাপে। |
| ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড | ৩ | ওল্ড ট্রাফোর্ডে অপ্রতিরোধ্য | শেষ ২১ পয়েন্টের মধ্যে ১৯ পয়েন্ট সংগ্রহ। |
| চেলসি | – | ৯টি লাল কার্ড (চলতি মৌসুম) | শৃঙ্খলাজনিত সমস্যায় জর্জরিত। |
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডাগআউটে মাইকেল ক্যারিক যেন এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছেন। ক্রিস্টাল প্যালেসের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়টি রেড ডেভিলদের জন্য ছিল এক বিশাল মানসিক স্বস্তি। ম্যাচের শুরুতে মাশানস লাকরোর গোলে পিছিয়ে পড়লেও হাল ছাড়েনি স্বাগতিকরা। দ্বিতীয়ার্ধে লাকরো লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় ইউনাইটেড। ব্রুনো ফার্নান্দেজ পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান।
ম্যাচের শেষ দিকে ব্রুনোর দুর্দান্ত এক ক্রস থেকে মাথা ছুঁইয়ে জয় নিশ্চিত করেন তরুণ তুর্কি বেনইয়ামিন সেসকো। ক্যারিকের অধীনে খেলা সাত ম্যাচের ছয়টিতেই জয় পেয়েছে ইউনাইটেড। সেসকো তার শেষ আট ম্যাচে সাতটি গোল করে দলের আস্থার প্রতিদান দিচ্ছেন। এই জয়ের ফলে ইউনাইটেড এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সরাসরি খেলার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল।
প্রিমিয়ার লিগের এই নাটকীয় মোড় আগামী ম্যাচগুলোতে আরও উত্তেজনা ছড়াবে বলে ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা। গানাররা কি পারবে তাদের ৫ পয়েন্টের এই লিড ধরে রাখতে, নাকি সিটির অভিজ্ঞতা শেষ হাসি হাসবে?