খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে অগ্রহায়ণ ১৪৩২ | ২ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
সাবেক ইংলিশ ব্যাটসম্যান রবিন স্মিথ, যিনি ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে বিশ্বের দ্রুততম বোলারদের মোকাবিলায় সাহসী ব্যাটিংয়ের জন্য পরিচিত ছিলেন, ৬২ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ার পার্থে নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তার পরিবার জানিয়েছে, মৃত্যুর কারণ এখনো অজানা এবং ময়নাতদন্তের পর নিশ্চিত করা হবে।
১৯৮৮ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে ৬২টি টেস্ট খেলা স্মিথ করেছেন ৪২৩৬ রান, যার মধ্যে ৯টি শতক এবং দারুন ৪৩.৬৭ গড়। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তার পারফরম্যান্স ছিল বিশেষভাবে উজ্জ্বল—তাদের বিপক্ষে তিনটি সেঞ্চুরি রয়েছে তার নামে।
তার ভয়ংকর স্কয়ার কাট শট ক্রিকেট বিশ্বে আলোচিত ছিল। বিশেষ করে ১৯৯০ সালের ক্যারিবীয় সফরে ইংল্যান্ডের ঐতিহাসিক প্রথম টেস্ট জয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে ১৯৯১ ও ১৯৯৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২–২ ব্যবধানে ড্র হওয়া দুটি সিরিজেও তিনি ছিলেন দলের অন্যতম মূল নির্ভরতা।
ওয়ানডে ক্রিকেটেও তার সেরা মুহূর্ত আসে ১৯৯৩ সালে এজবাস্টনে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৬৭ রানে*—যা ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ ওয়ানডে স্কোর ছিল ২০১৬ সাল পর্যন্ত।
তবে স্পিনের বিপক্ষে তার সীমাবদ্ধতা ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে ১৯৯৩ অ্যাশেজে শেন ওয়ার্নের সফল আবির্ভাবের পর সিলেক্টররা সিদ্ধান্ত নেন অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে স্মিথকে না রাখার। কিন্তু জীবন শেষ পর্যন্ত দুই ক্রিকেটারকে একই ছাদের নিচে এনেছে—হ্যাম্পশায়ারে খেলার সময় স্মিথ-ওয়ার্নের বন্ধুত্ব ছিল গভীর।
দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে জন্ম নেওয়া স্মিথ ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটে নিবেদিত ছিলেন। পরিবারের বাড়িতে বিশেষ নেট তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে ব্যারি রিচার্ডস ও মাইক প্রোক্টরের মতো কিংবদন্তিরা নিয়মিত অনুশীলনে সঙ্গী হতেন।
৩২ বছর বয়সে ইংল্যান্ডের হয়ে শেষ টেস্ট খেলেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান তিনি। ইংল্যান্ড তখন দলে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নেয়, এবং বয়সের কারণে স্মিথকে বাদ দেওয়া হয়—যদিও তার পরিসংখ্যান বলছিল তিনি এখনো দলের সেরাদের একজন।
ক্যারিয়ার শেষে অ্যালকোহল সমস্যায় ভুগলেও গত সপ্তাহে তিনি অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে উপস্থিত ছিলেন। গণমাধ্যমে জানিয়েছেন বিবিধ মানসিক সংগ্রাম অতিক্রম করে তিনি ভালো আছেন। ইংল্যান্ড লায়ন্স দলের এক অনুশীলন সেশনেও ছিলেন তিনি অতিথি হিসেবে।
ইসিবি চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন বলেন,
“রবিন স্মিথ ছিলেন অনন্য এক ব্যাটসম্যান। দ্রুতগতির বোলিংয়ের সামনে দাঁড়িয়ে যে আত্মবিশ্বাস তিনি দেখাতেন, তা বহু বছর অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”