খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 29শে মাঘ ১৪৩২ | ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাতের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত সৃষ্টি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তারা সংশোধন করেছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১। এই সংস্কার আইন হিসেবে চালু হবে ‘বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়েছে।
বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে নিশ্চিত করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। তিনি জানিয়েছেন, এটি কেবল একটি আইনি পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক পুনর্গঠনের এক সাহসী ও মানবিক পদক্ষেপ। ফয়েজ আহমদের ভাষ্য, “যে দেশে একসময় টেলিকম আইনের অপব্যবহার করে বেআইনি নজরদারি ও ইন্টারনেট বন্ধের মাধ্যমে নাগরিকদের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, সেই দেশে এই সংস্কার নিঃসন্দেহে ইতিহাস সৃষ্টি করবে।”
| বিষয় | মূল পরিবর্তন ও সুবিধা |
|---|---|
| মতপ্রকাশের স্বাধীনতা | হেইট স্পিচকে সরাসরি অপরাধ ধরা হবে না; শুধুমাত্র সহিংসতা উসকে দেওয়ার প্রেক্ষিতে অপরাধ গণ্য হবে। |
| নিয়ন্ত্রকের ক্ষমতা | বিটিআরসি’র পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা কমানো, অধিকাংশ কার্যকরী ক্ষমতা পুনঃপ্রদান। |
| বিনিয়োগবান্ধব কাঠামো | জরিমানা এক-তৃতীয়াংশে কমানো, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। |
| স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি | উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কোয়াসি-জুডিশিয়াল কমিটি গঠন; সিদ্ধান্তসমূহ পোস্ট-ফ্যাক্টো রিভিউ। |
| সংসদীয় জবাবদিহি | নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে নিয়মিত প্রতিবেদন দাখিল বাধ্যতামূলক। |
| ইন্টারনেট বন্ধ নিষিদ্ধ | আইনি কাঠামো থেকে ইন্টারনেট বন্ধের ক্ষমতা প্রত্যাহার; নাগরিক অধিকার, অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও ডিজিটাল অর্থনীতি সুরক্ষিত। |
| আন্তর্জাতিক মানের নজরদারি | প্রি-অ্যাপ্রুভাল ও পোস্ট-ফ্যাক্টো রিভিউ, সময়সীমা নির্ধারণ, ইভেন্ট লগিং ও অ্যাক্সেস কন্ট্রোলসহ কাঠামোবদ্ধ নজরদারি। |
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও উল্লেখ করেন, এই সংশোধন কেবল আইনি সংস্কার নয়, এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্কের একটি নতুন ভিত্তি। তিনি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এমনি আন্তরিক সহযোগিতা ছাড়া এই মাইলফলক অর্জন সম্ভব হতো না।”
এই সংস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজিটাল অধিকার ও তথ্যপ্রবাহের স্বাধীনতা, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষা, এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গঠন নিশ্চিত হয়েছে। বিশেষভাবে, ইন্টারনেট বন্ধের ক্ষমতা প্রত্যাহার করা এক ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের টেলিযোগাযোগ আইন এখন মানবিক, দায়বদ্ধ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কাঠামোর মধ্যে এসেছে। এটি শুধু আইনি পরিবর্তন নয়, বরং রাষ্ট্র ও নাগরিকের সম্পর্ক পুনর্গঠনের এক সাহসী পদক্ষেপ, যা ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেবে।