খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 4শে আষাঢ় ১৪৩২ | ১৮ই জুন ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ইন্দোনেশিয়ার লেওটোবি ল্যাকি-ল্যাকি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে আকাশে ছাইয়ের বিশাল মেঘ ছড়িয়ে পড়েছে ছয় মাইলেরও বেশি ওপরে। ফলে জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ বালির শতাধিক ফ্লাইট বাতিল বা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বুধবার (১৯ জুন) সিএনএন জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ৩৫ মিনিটে আগ্নেয়গিরিটি হঠাৎ সক্রিয় হয়ে ১১ কিলোমিটার উচ্চতায় উষ্ণ ছাই স্তম্ভ ছুড়ে দেয়। ছাইয়ের মেঘে ফ্লোরেস দ্বীপের তলিবুরা গ্রাম ঢেকে যায় এবং প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছাই ছড়িয়ে পড়ে।
ডেনপাসার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর জানিয়েছে, আগ্নেয়গিরির কারণে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বহু ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জাকার্তা, লমবক, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ভারত, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরগামী ফ্লাইট। ফ্রান্সিস্কাস জ্যাভেরিয়াস সেদা বিমানবন্দর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সিঙ্গাপুরের ছাংগি বিমানবন্দর জানিয়েছে—জেটস্টার, স্কুট ও এয়ার এশিয়া বালিগামী বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে। পর্যটক আথিরাহ রোজলি বলেন, ‘প্রথমে ভয় পেয়েছিলাম, পরে বুঝলাম নিরাপদে থাকাটাই আশীর্বাদ।’
এদিকে আগ্নেয়গিরিটি আজ বুধবারও আবার অগ্ন্যুৎপাত করেছে। এ সময় ১ কিলোমিটার উঁচু পর্যন্ত ছাই নির্গত হয়। কাছাকাছি দুটি গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগ্নেয়গিরির আশপাশে ৮ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির কারণে আগ্নেয় লাভা নদীতে নেমে যেতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
বালি ও কোমোডো দ্বীপে যাওয়া এক হাজারের বেশি পর্যটক এই অগ্ন্যুৎপাতের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন। এর আগে গত মে, মার্চ ও নভেম্বরেও এ আগ্নেয়গিরি অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছিল। সে সময় প্রাণহানি ও ফ্লাইট বাতিলের ঘটনাও ঘটে।
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১২০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। দেশটি প্রায়ই ভূমিকম্প ও অগ্ন্যুৎপাতের মুখে পড়ে।
খবরওয়ালা/এন