খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: 8শে বৈশাখ ১৪৩২ | ২১ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের ক্ষমতা কতটা স্বচ্ছভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, তা নিয়ে ফের আলোচনায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত। গত ৩৩ বছরে কতজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে রাষ্ট্রপতিরা ক্ষমা করেছেন—এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২১ এপ্রিল) বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন।
রুলে বলা হয়, রাষ্ট্রপতির ক্ষমার অধিকার কীভাবে এবং কাদের সুপারিশে প্রয়োগ হয়েছে, সেই বিষয়টি জনস্বার্থে জানা জরুরি।
রুলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের জনবিভাগের সচিবকে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এ রিটটি দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক। তিনি জানান, ১৯৯১ সাল থেকে ২০২৩ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কতজনকে দণ্ড মওকুফ বা স্থগিত করেছেন, তার তালিকা জানতে গত বছর একটি আইনি নোটিশ দেন তিনি। কিন্তু কোনো উত্তর না পেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন।
ব্যারিস্টার ফারুকের দাবি, ‘রাষ্ট্রপতির ক্ষমা অনেক সময় এমন কিছু কুখ্যাত অপরাধীদের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হয়েছে, যাদের মুক্তি পাওয়ার পর তারা পুনরায় অপরাধে লিপ্ত হয়েছে। এতে আইনের শাসন ও বিচার ব্যবস্থার ওপর জনআস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’
রিটে আরও বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি কার দণ্ড মওকুফ করছেন, কোন প্রক্রিয়ায় এবং কোন মানদণ্ডে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা জানার অধিকার জনগণের আছে। বিশেষ করে যখন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত অপরাধীরাও এই ক্ষমার আওতায় পড়ে মুক্তি পাচ্ছে, তখন এই প্রক্রিয়া নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
এই রুলের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদানের পেছনে থাকা রাজনৈতিক, প্রশাসনিক বা ব্যক্তিগত প্রভাব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।
খবরওয়ালা/আরডি