বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনের অন্যতম পরিচিত মুখ তোফায়েল আহমেদের শেষ ইচ্ছা পূরণে ভোলার পারিবারিক কবরস্থানে তার বাবা-মায়ের কবরের পাশেই সমাধিস্থ করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তার কবর খননের কাজ শুরু হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবদ্দশায় তোফায়েল আহমেদ একাধিকবার পরিবারের সদস্যদের কাছে নিজের ইচ্ছার কথা জানিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন মৃত্যুর পর যেন তাকে বাবা মরহুম আজহার আলী ও মা ফাতেমা খানমের কবরের পাশে দাফন করা হয়। পরিবারের সদস্যরা তার সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে একই স্থানে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিকেলে নিজ বাড়ির সামনে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। দুটি জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।
কবর খননের দায়িত্ব পালন করছেন ৭০ বছর বয়সী আবু তাহের। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি এলাকার অসংখ্য মানুষের কবর খননের কাজ করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি জীবনে শতাধিক কবর খনন করেছেন। বিশেষভাবে তোফায়েল আহমেদের পরিবারের সঙ্গে তার দীর্ঘ সম্পর্ক রয়েছে। এর আগে তিনি তোফায়েল আহমেদের বাবা আজহার আলী, মা ফাতেমা খানম, স্ত্রী আনোয়ারা বেগমসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের কবরও খনন করেছিলেন।
আবু তাহের বলেন, জীবনের এই পর্যায়ে এসে দেশের একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক নেতার কবর খননের দায়িত্ব পালন করতে পারা তার জন্য একটি বিশেষ অভিজ্ঞতা। পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের কবর খননের স্মৃতিও তিনি স্মরণ করেন।
তোফায়েল আহমেদের ভাগনে মো. রকিবুল ইসলাম জানান, পরিবারের সবার কাছে তার মামার এই ইচ্ছার কথা জানা ছিল। মৃত্যুর পর বাবা-মায়ের পাশে শায়িত হওয়ার যে স্বপ্ন তিনি লালন করেছিলেন, সেটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই পারিবারিক কবরস্থানে কবর খনন করা হচ্ছে।
দাফনসংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত তথ্য
বিষয়
তথ্য
দাফনের স্থান
কোড়ালিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান
ইউনিয়ন
দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়ন
উপজেলা
ভোলা সদর
কবরের অবস্থান
বাবা আজহার আলী ও মা ফাতেমা খানমের কবরের পাশে
প্রথম জানাজা
ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ
দ্বিতীয় জানাজা
নিজ বাড়ির সামনে
কবর খননের দায়িত্বে
আবু তাহের (৭০)
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তোফায়েল আহমেদ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক আন্দোলন, বিশেষ করে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং মুক্তিযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে একজন পারিবারিক মানুষ হিসেবেও তিনি পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুর পর নিজের বাবা-মায়ের পাশে সমাহিত হওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা তিনি প্রকাশ করেছিলেন, পরিবার সেই ইচ্ছাকে বাস্তবায়ন করছে। এর মধ্য দিয়ে তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি আবেগঘন অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটছে, যেখানে পারিবারিক বন্ধন ও শিকড়ের প্রতি তার গভীর অনুরাগের প্রতিফলন দেখা যায়।