খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে পৌষ ১৪৩২ | ২৯ই ডিসেম্বর ২০২৫ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুলাওয়েসি প্রদেশের মানাডো শহরে অবস্থিত ‘ওয়ের্ধা দামাই’ নামের একটি বৃদ্ধনিবাসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১৬ প্রবীণ বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় গত রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার কিছু পর এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আগুনে দগ্ধ হয়ে আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, ভবনের ভেতরে আটকে পড়া প্রবীণদের মধ্য থেকে ১২ জনকে জীবিত উদ্ধার সম্ভব হলেও অধিকাংশের পক্ষে বয়সের কারণে দ্রুত সরে আসা সম্ভব হয়নি।
মানাডো অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান জিমু রোটিনসুলু জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার তিন মিনিটের মধ্যে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় এবং দমকলের অন্তত দশটি ইউনিট অংশ নেয়। তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে পুরো ভবন ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে, ফলে উদ্ধার অভিযান কঠিন হয়ে ওঠে। স্থানীয় টেলিভিশন ‘মেট্রো টিভি’ প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, রাতের আঁধারে অগ্নিশিখায় ভবনটি দাউদাউ করে জ্বলছে এবং সাধারণ মানুষসহ দমকলকর্মীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বৃদ্ধদের বের করে আনছে।
দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ বাসিন্দা নিজ নিজ কক্ষে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। বয়সজনিত অসুস্থতা, চলাফেরায় অক্ষমতা এবং আতঙ্কে সঠিক সময়ে বের হতে না পারায় অধিকাংশের মৃত্যু ঘরের ভেতরেই হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া সূত্রে জানা যায়, আগুন ছড়িয়ে পড়ার সময় অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম সক্রিয় হয়নি বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটকে কারণ হিসেবে ধারণা করা হলেও চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষা চলছে।
| বিষয় | সংখ্যা/তথ্য |
|---|---|
| মৃত্যু | ১৬ জন |
| গুরুতর আহত | ৩ জন |
| নিরাপদে উদ্ধার | ১২ জন |
| আগুন লাগার সময় | স্থানীয় সময় রাত ৮:৩১ মিনিট |
| সম্ভাব্য কারণ | বৈদ্যুতিক গোলযোগ (প্রাথমিক) |
| উদ্ধার অভিযান অংশগ্রহণ | দমকলের ১০ ইউনিট |
ইন্দোনেশিয়ায় অগ্নিকাণ্ড একটি সাধারণ ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত দেশটিতে ভবন ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরেই নানা ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা চলছে। চলতি মাসেই রাজধানী জাকার্তায় একটি বাণিজ্যিক ভবনে আগুনে ২২ জন নিহত হন। এর মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে সুলাওয়েসির এই ঘটনা দেশটির জননিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
সরকার এ দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটন ও দায় নির্ধারণে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি বৃদ্ধাশ্রমসহ বয়স্ক নাগরিকদের জন্য আবাসিক প্রতিষ্ঠানে জরুরি নিরাপত্তা পরীক্ষা জোরদার করার কথা ভাবা হচ্ছে। স্থানীয়রা হতাহতদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বালন ও শোক সমাবেশের আয়োজন করেছেন। নিঃস্বজন অনেক মৃত প্রবীণের দাফন ও সৎকারের দায়িত্বও সরকারি উদ্যোগে গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে।
এ দুর্ঘটনা প্রবীণদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে নতুন করে দায়িত্বশীলতার প্রশ্ন তুলেছে এবং বিশেষজ্ঞরা ভবন নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে কঠোর নীতিমালার ওপর জোর দিচ্ছেন। সমাজে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর যত্ন ও সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় নজরদারি বাড়ানো এখন সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।