খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 18শে ফাল্গুন ১৪৩২ | ২ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ইরানের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দোহা, আবুধাবি, দুবাই ও মানামার আকাশে বিস্ফোরণের আলো দেখা যাওয়ার পর উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা চিত্র আমূল বদলে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন নিজেদের স্থিতিশীল, বিনিয়োগবান্ধব ও সংঘাতমুক্ত অঞ্চল হিসেবে যে ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিল, সাম্প্রতিক হামলায় তা বড় ধাক্কা খেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ অঞ্চল এখন এক কঠিন কৌশলগত সিদ্ধান্তের সামনে। একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক প্রতিক্রিয়া জানালে ইসরায়েলের পক্ষে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে; অন্যদিকে নীরব থাকলে নিজেদের ভূখণ্ডে হামলা সহ্য করার রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপ বাড়বে।
নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির আবুধাবি ক্যাম্পাসের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতি বিষয়ক অধ্যাপক মোনিকা মার্কস বলেন, মানামা, দোহা বা দুবাইয়ের মতো শহরে বোমাবর্ষণের দৃশ্য স্থানীয় জনগণের কাছে ঠিক ততটাই অকল্পনীয়, যতটা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে শার্লট বা সিয়াটলে হামলার দৃশ্য। তাঁর মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো কয়েক সপ্তাহ ধরেই উত্তেজনা বাড়তে দেখছিল এবং তা থামাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছিল।
গত শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও কয়েকজন শীর্ষ সামরিক নেতার মৃত্যুর পর সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও প্রশাসনিক স্থাপনায় হামলার পাশাপাশি একটি স্কুলে আঘাতে বহু হতাহতের খবর আসে। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ শুরু করে।
আরব আমিরাতে অন্তত তিনজন নিহত ও বহু আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। কাতার, ওমান, কুয়েত ও বাহরাইনেও আহতের খবর পাওয়া গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার সময় সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষ দুবাই ও কুয়েতের বিমানবন্দর, মানামার বহুতল ভবন এবং দোহায় বিভিন্ন স্থানে পড়ে ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে।
| দেশ | হতাহত (প্রাথমিক) | গুরুত্বপূর্ণ ক্ষয়ক্ষতি |
|---|---|---|
| সংযুক্ত আরব আমিরাত | ৩ নিহত, ৫৮ আহত | বিমানবন্দর ও বাণিজ্যিক ভবনে ধ্বংসাবশেষ |
| কাতার | ১৬ আহত | দোহায় বিভিন্ন স্থানে ধোঁয়া ও অবকাঠামো ক্ষতি |
| কুয়েত | ৩২ আহত | বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আঘাত |
| বাহরাইন | ৪ আহত | বহুতল ভবনে আংশিক ক্ষতি |
| ওমান | ৫ আহত | সীমিত অবকাঠামোগত ক্ষতি |
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বিদ্যুৎ গ্রিড, পানি শোধনাগার ও জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে। প্রচণ্ড গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ায় এসব সেবা ব্যাহত হলে পরিস্থিতি দ্রুত মানবিক সংকটে রূপ নিতে পারে।
কিংস কলেজ লন্ডনের লেকচারার রব গাইস্ট পিনফোল্ড মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্য আবারও রাষ্ট্র বনাম রাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে ফিরে যাচ্ছে, যেখানে প্রক্সি সংঘাত বা ‘ধূসর যুদ্ধ’-এর জায়গা কমে আসছে।
উপসাগরীয় দেশগুলো মূলত এ যুদ্ধ এড়াতে চেয়েছিল। ওমানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছিল, যা শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায়। এখন তাদের সামনে দুটি পথ—সংঘাতে জড়িয়ে পড়া বা কৌশলগত নিরপেক্ষতা বজায় রাখা। তবে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে আকাশছোঁয়া নগরীগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিরপেক্ষ থাকা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।